বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলায় ব্যবসায়ী খোকনচন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। রবিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন সোহাগ খান (২৭), রাব্বি মোল্লা (২১) এবং পলাশ সর্দার (২৫)—তিনজনই ডামুড্যা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই খোকন দাসকে হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু হয়েছে।


মৃত্যুর আগে নাম জানিয়েছিলেন
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকাকালীন খোকন দাস হামলাকারী হিসেবে সোহাগ খান ও রাব্বি মোল্লার নাম বলে গিয়েছিলেন। তদন্ত এগোতেই পলাশ সর্দারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার গভীর রাতে বাজিতপুর এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কীভাবে ঘটেছিল হামলা
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতের দিকে। ব্যবসার টাকা নিয়ে অটোরিক্সায় বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে হেঁটে যাওয়ার সময় তিলই ব্যাপারী বাড়ি মসজিদের সামনে ওৎ পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাঁকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পুলিশের বক্তব্য, টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় খোকনের গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে তাঁকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং এরপর ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।


তদন্তের অগ্রগতি
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে আর কেউ যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা আলামত ও ধৃতদের বয়ানের ভিত্তিতে তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হবে।







