গ্রেফতার করা যাবে না খান স্যারকে, অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিল পটনার আদালত

কোচিং সেন্টারের বাইরে গুলি চলার মামলায় খান স্যারকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে নির্দেশ পটনা জেলা আদালতের। তদন্তে সহযোগিতার শর্তে মিলল অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

খান স্যারকে গ্রেফতার করা যাবে না— কোচিং সেন্টারের বাইরে গুলি চলার ঘটনায় আপাতত এমনই স্বস্তি মিলল পটনার জনপ্রিয় শিক্ষক ও ইউটিউবারের। মঙ্গলবার জেলা আদালত তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছে। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার পটনা জেলা আদালতে মামলার শুনানির সময় খান স্যরের আইনজীবীরা আগাম জামিনের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত নির্দেশ দেয়, তদন্ত চলাকালীন তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। একইসঙ্গে তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজন হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, খান স্যরের বিরুদ্ধে কোনও বলপূর্বক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। তবে তদন্তে বাধা দেওয়া বা সহযোগিতা না করার সুযোগও নেই। আদালতের এই নির্দেশ আপাতত তাঁকে স্বস্তি দিলেও মামলার তদন্ত স্বাভাবিক গতিতেই চলবে।

সূত্রের খবর, শুনানির সময় আদালত পুলিশকে মামলার কেস ডায়েরি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, এই মামলার আরেক অভিযুক্ত এবং খান স্যরের প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারের মালিক রোশন আনন্দের জামিনের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি আদালত। সেই রায় আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন। অভিযোগ, সেদিন ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল খান স্যরের কোচিং সেন্টারে হামলা চালায়। ভাঙচুরের পাশাপাশি ইট-পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পটনার কোচিং হাবে।

হামলার পরদিন পুলিশ খান স্যরের কোচিং সেন্টারের দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কদমকুঁয়া থানায় এই ঘটনায় এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে।

খান স্যরের অভিযোগ, তাঁর কোচিং সেন্টারে হামলার পিছনে রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং ব্যবসায়ী রোশন আনন্দ। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।

পটনার মুসল্লাপুর এলাকার কিসান কোল্ড স্টোরেজ অঞ্চলকে বিহারের অন্যতম বড় কোচিং হাব হিসেবে ধরা হয়। ২০১৮-১৯ সাল থেকে এখানে ২০টিরও বেশি কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। এখানেই পাশাপাশি রয়েছে খান স্যার এবং রোশন আনন্দের প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের দাবি, দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও টানাপড়েন নতুন নয়; গত কয়েক বছর ধরেই সেই দ্বন্দ্ব চলছিল। আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশে খান স্যার আপাতত স্বস্তি পেলেও, তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর সবার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর