নজরবন্দি ব্যুরো: কেরলমের ত্রিশূরে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল তামিলনাড়ুর একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের আট ছাত্রের। শুক্রবার গভীর রাতে ৬৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরিতে তাঁদের গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে। গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই ছ’জনের মৃত্যু হয়, পরে হাসপাতালে মারা যান আরও দু’জন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ। ছাত্রদের গাড়িটি গুরুভায়ুর মন্দিরের দিক থেকে কোডুংগাল্লুরের দিকে যাচ্ছিল। ত্রিশূরের ৬৬ নম্বর জাতীয় সড়কে রাস্তার এক পাশে একটি লরি দাঁড় করানো ছিল। অভিযোগ, লরিটি সেখানে বেআইনি ভাবে পার্ক করা হয়েছিল।
দুর্ঘটনার পর লরির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, লরিটি মহারাষ্ট্র থেকে এসেছিল। ইতিমধ্যেই চালকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বেআইনি ভাবে লরি পার্ক করা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (Bharatiya Nyaya Sanhita) সংশ্লিষ্ট ধারায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার মামলা রুজু হয়েছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দুর্ঘটনার সময় জাতীয় সড়কের ওই অংশে সংস্কারের কাজ চলছিল এবং ব্যারিকেড দেওয়া ছিল। তার কাছেই ডান দিকে লরিটি দাঁড় করানো হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে গাড়ির চালক সেই ব্যারিকেড দেখতে না পাওয়াতেই বিপদ ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে গাড়িটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারাল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। গাড়িটির গতি কত ছিল এবং দুর্ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি পলাতক লরি চালকের সন্ধানেও তল্লাশি চলছে।
মৃত আট ছাত্রই তামিলনাড়ুর ডিন্ডিগুলের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পড়ুয়া। এখনও পর্যন্ত ছ’জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সূর্য, যুবসঞ্জিত, বিশ্ব এবং জহুয়া ডিন্ডিগুলের বাসিন্দা। অন্য দু’জন, সন্তোষ ও প্রসন্ন, মাদুরাইয়ের বাসিন্দা।
বাকি দু’জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। কলেজের পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। কিন্তু চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, ছাত্ররা যে তামিলনাড়ু থেকে কেরলে গিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে অনেক পরিবারের কাছেই কোনও স্পষ্ট তথ্য ছিল না। তাঁরা কেন ত্রিশূরে গিয়েছিলেন, তা এখনও তদন্তে পরিষ্কার হয়নি।
মৃতদের পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যেই ত্রিশূর মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছতে শুরু করেছেন। সেখানেই মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্ত হবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ছাত্রদের কেরল যাওয়ার উদ্দেশ্য—দুই বিষয়ই এখন তদন্তের কেন্দ্রে।



