কেরলে ফ্রি বাস পরিষেবা ঘিরে বিতর্ক, মহিলা যাত্রী হারিয়ে আন্দোলনে বেসরকারি বাস মালিকরা

মহিলা ও ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাত্রার সুবিধা চালুর পর বড় ধাক্কা বেসরকারি বাস পরিষেবায়। যাত্রী কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলে ২০ জুলাই থেকে আন্দোলনের ডাক দিল কেরলের বাস মালিক সংগঠন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কেরলে (Kerala) সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাত্রা পরিষেবা চালুর পর এবার নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস (Indian National Congress) সরকারের ‘প্রিয়দর্শিনী বিনামূল্যে বাস যাত্রা প্রকল্প’ (Priyadarshini Free Bus Travel Scheme) চালু হওয়ার পর থেকে সরকারি বাসেই বেশি ভিড় করছেন মহিলা যাত্রীরা বলে অভিযোগ। এর জেরে যাত্রী কমে ব্যবসায় বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়ার দাবি তুলে আন্দোলনের পথে হাঁটলেন বেসরকারি বাস মালিকরা।

ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেরল সরকার মহিলা ও ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাত্রার ব্যবস্থা চালু করে। রাজ্যের সরকারি পরিবহণ সংস্থা কেরল স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (Kerala State Road Transport Corporation – KSRTC)-এর বাসে এখন বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারছেন যোগ্য যাত্রীরা।

কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশন (V. D. Satheesan) জানিয়েছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের প্রতি মাসে প্রায় ৭০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। বছরে এই খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকায়। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ মহিলাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে সাহায্য করবে।

তবে এই প্রকল্পের বিরূপ প্রভাব পড়েছে বেসরকারি বাস পরিষেবায় বলে অভিযোগ উঠেছে। কেরলে সরকারি বাসের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অধিকাংশ মহিলা যাত্রী এখন সরকারি বাসকেই বেছে নিচ্ছেন। ফলে বেসরকারি বাসে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে বলে দাবি বাস মালিকদের।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষতির বোঝা আর টানা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে প্রাইভেট বাস অপারেটরস ফেডারেশন (Private Bus Operators Federation)। সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২০ জুলাই থেকে কেরল সচিবালয়ের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু হবে।

সূচি অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন দু’টি জেলার বাস মালিকেরা পর্যায়ক্রমে আন্দোলনে অংশ নেবেন। এরপর ২৫ জুলাই তিনটি রাজ্যের বাসচালক ও বাস মালিকদের যৌথ বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ঘোষণা করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারের সিদ্ধান্তে যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সরকারকেই।

মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও নিরাপদ গণপরিবহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প চালু করেছে কেরল সরকার। তবে সেই উদ্যোগের ফলে বেসরকারি পরিবহণ শিল্পের একাংশ আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে বলে অভিযোগ। ফলে সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং বেসরকারি পরিবহণ ব্যবসার ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটাই এখন কেরল সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন