নজরবন্দি ব্যুরোঃ সুস্থ হচ্ছে দিল্লি, গত কয়েক সপ্তাহের লড়াই, হাহাকার, পেরিয়ে ক্রমে শান্ত হচ্ছে রাজধানী। ধীরে ধীরে খালি হচ্ছে নার্সিংহোম গুলি, পার্কিং লটে থরে থরে পড়ে নেই প্যাকেট বন্দী মৃতদেহ। রাজধানী জুড়ে জ্বলা গণচিতার শিখা নিভু নিভু। সব মিলিয়ে পুরো সুস্থ না হলেও, ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে দিল্লি।
আরও পড়ুনঃ অবিলম্বে ডাকুন জিএসটি পরিষদের বৈঠক, নির্মলাকে চিঠি অমিতের


করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কাছে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে একটা গোটা দেশ। চারদিকে হাহাকার অক্সিজেন, বেড, হাস্পাতাল, টিকা। কোথাও কোথাও মৃত্যু মিছিলে কম পড়ছে চিতায় তোলার কাঠ। গত কয়েক সপ্তাহে ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিলো দিল্লিতে। অক্সিজেনের চরম সংকট, বেড নেই গোটা রাজ্যে, অক্সিজেনের অভাবে হাসপাতালের বেডে শুয়েও থেমে গেছে বহু রোগীর প্রাণ, এমনকি পাওয়া যায়নি মৃতদেহ রাখার জায়গাও।
অক্সিজেনের জন্য কেন্দ্রের কাছে বারবার অনুরোধ করেছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ না হওয়ায় হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিলো আদালতকে। তবে সব ভয়াবহ দিন পেরিয়ে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে। কয়েকদিন আগেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন এই মুহুর্তে দিল্লিতে আর অক্সিজেন লাগবে না, যেখানে দোইনিক সংক্রমণে দেশের শীর্ষে ছিলো রাজধানী, সেখানে নেমেছে সংক্রমণের গ্রাফও। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০ হাজার ৪০০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে দিল্লিতে। যা আগের দিনের পরিসংখ্যানের থেকে ২১ শতাংশ কম। এই মুহুর্তে পরিমাণ মতো ভ্যাকসিন চান কেজরীওয়াল।
পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আনার পরই, বাড়ন্ত অক্সিজেন অভাবী রাজ্যকে দিয়ে সাহায্যের কথা ভেবেছে কেজরীওয়াল সরকার। একথা ঘোষণা করেছেন দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসৌদিয়া। আজ, বৃহস্পতিবার একটি বৈঠকে তিনি নিজে জানিয়েছেন ‘‘অক্সিজেনের চাহিদা এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। হাসপাতালের শয্যাও ফাঁকা হচ্ছে ক্রমশ। ১৫ দিন আগেও দিনে ৭০০ মেট্রিক টন অক্সিজেনের দরকার হত আমাদের। এখন চাহিদা কমেছে, এই মুহুর্তে দৈনিক চাহিদা দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৫৮২ মেট্রিক টনে।’’


সুস্থ হচ্ছে দিল্লি, এই কঠিন লড়াইয়ে, কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য কেন্দ্র এবং আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। সঙ্গে অনুরোধ করেছে, যেহেতু প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা কম অক্সিজেন লাগছে এই মুহুর্তে, সেক্ষেত্রে দিল্লির জন্য বরাদ্দ অক্সিজেনের বাড়তি যেন অক্সিজেনের ঘাটতি থাকা রাজ্য গুলিকে দিয়ে সাহায্য করে কেন্দ্র।







