রাত পোহালেই কলকাতার উত্তর কলকাতার মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। এই কেন্দ্রে এবার তৃণমূলের তরফে প্রার্থী করা হয়েছে প্রয়াত রাজ্যের মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের স্ত্রী সুপ্তি পাণ্ডেকে। অন্যদিকে, বিজেপির তরফে প্রার্থী হয়েছেন কল্যাণ চৌবে। ভোটগ্রহণের মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনলেন। ফাঁস করলেন একটি ফোনালাপ! (রেকর্ডিং-এর সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) আর এই ঘটনায় রীতিমত হইচই সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
কুণাল ঘোষের দাবি, মানিকতলা জিততে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেন কল্যাণ চৌবে। সাহায্য করলে কুণালকে বড় পদ দেবেন বলেও নাকি ‘লোভ’ দেখান তিনি। উল্লেখ্য, কল্যাণ এই মুহূর্তে অল ইন্ডিয়া ফেডারেশনের সভাপতি রয়েছেন। কুণালকেও তিনি সেই সূত্রেই ‘কাজ’ পাইয়ে দেবেন বলে প্রস্তাব দেন। যদিও কল্যাণের এ হেন প্রস্তাবে রাজি হননি কুণাল। ভোটের আগে যখন আর ২৪ ঘন্টাও সময় নেই, ঠিক তখন তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে একটি ফোন রেকর্ডিং সামনে আনলেন।

কুণালের ফাঁস করা এই রেকর্ডিং-এ (রেকর্ডিং-এর সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) কল্যাণকে বলতে শোনা যায়, “কুণালদা আপনি তো জানেন, এটা উপনির্বাচন। এখানে হার জিতে সরকার বদলের কোনও সম্ভাবনা নেই…তাই আর কি…আপনি যদি একটু কনসিডার করতেন!” কুণালের প্রত্যুত্তরে বলেন, “হ্যাঁ উপনির্বাচনে তো মানুষ ক্ষময়ায় থাকা সরকারকেই চাইবে। কিন্তু আমি কি করতে পারি! আপনি যা বলছেন এতে তো অনেক বড় সমস্যা হয়ে যাবে। যা সিদ্ধান্ত নেবার জনগণ নেবে।” তবুও নাছোড় কল্যাণ বলেন, “আমি খেলাধূলার লাইনে আছি। আপনি যদি চান আপনাকে আমি যে কোনও ধরনের পদ পাইয়ে দিতে পারি!” কুণাল পাল্টা বলে, “আমার বিশেষ আগ্রহ নেই!”
মানিকতলা জিততে সাহায্য করুন, কুণালকে বড় ‘অফার’ দিলেন বিজেপির কল্যাণ!

প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মানিকতলা কেন্দ্র থেকে জেতেন সাধন পাণ্ডে। কিন্তু, ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু হয় তাঁর। এরপর থেকেই মানিকতলা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের কথা ছিল। অবশেষে লোকসভা ভোট মিটতে এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে। আগের নির্বাচনেও বিজেপির হয়ে মানিকতলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কল্যাণ চৌবে। ৪৭ হাজাএর কিছু বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন। মঙ্গলবার, মানিকতলার পাশাপাশি রানাঘাট দক্ষিণ, বাগদা এবং রায়গঞ্জে উপনির্বাচন।



