আজ, বুধবার মানিকতলা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে, মঙ্গলবার তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী তথা ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবের বিরুদ্ধে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনেন। একটি কল রেকর্ডিং (রেকর্ডিং-এর সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) প্রকাশ করে কুণাল দাবি করেন, কল্যাণ তাঁর কাছে মানিকতলা জেতার জন্য সাহায্য করেছেন আর সাহায্য করলে খেলার জগতে বড় ‘পদ’ পাইয়ে দেবার অফার পর্যন্ত করেছেন। এবার এ বিষয়ে মুখ খুললেন কল্যাণ চৌবে।
কল্যাণের সাফ কথা, এই কল রেকর্ডিং এডিট করা হয়েছে। তিনি এই ধরনের কোনও ‘অফার’ কুণাল ঘোষকে দেননি। সঙ্গে তিনি এও বলেছেন, পুরো রেকর্ডিং না শুনিয়ে অংশ বিশেষ শুনিয়ে কুণাল তাঁর বদনাম করতে চেয়েছেন। এছাড়া কল্যাণ যে কথা বলেছেন তাতে রীতিমতো হইচই সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ঠিক কী বলেছেন তিনি?

কল্যাণের বক্তব্য, “একটা সময় ছিল যখন কুণাল ঘোষের পাশে কেউ ছিল না। সেই সময় তিনি আমার বাড়িতে আসতেন। আমি খেলাধূলার লোক। সব সময় মানুষকে সাহায্য করে থাকি। ৩০ বছর ধরে ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। সেই সময় কুণাল ঘোষকে মোহনবাগান ক্লাবে আমি যুক্ত করি। তখন তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। আমাদের রাজ্য সভাপতি ছিলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চেয়েছিলেন। বলেচিলেন, আমি তৃণমূলের অনেক গোপন খবর জানি। সব আপনাদের বলব। কিন্তু, আমার দলের শীর্ষ নেতারা কুণাল ঘোষের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হননি।”
কল্যাণ আরও বলেন, “বিগত তিন সপ্তাহ ধরে নির্বাচনের প্রচার করছি। কেউ বলতে পারবে না আমি আমার বিপরীতের যে প্রার্থী সেই সাধন পাণ্ডের স্ত্রী সুপ্তি পাণ্ডের বিরুদ্ধে একটাও নিন্দাজনক কথা বলেছি। অথচ আমাকে নিয়ে বলা হয়েছে। আমার পদবী নিয়ে বলা হয়েছে। চৌবে ভট্টাচার্য বলেছে আমাকে। হ্যাঁ আমি মায়ের পদবী ব্যবহার করি। কিন্তু, কুণাল ঘোষ যা করলেন এরপর তাঁকে ফোন করতে মানুষ ভয় পাবে।”
বিজেপিতে যোগ দিয়ে তৃণমূলের গোপন খবর ফাঁস করতে চেয়েছিলেন কুণাল! বিস্ফোরক কল্যাণ

অন্যদিকে, কুণালের ফাঁস করা রেকর্ডিং-এ (রেকর্ডিং-এর সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) কল্যাণকে বলতে শোনা যায়, “কুণালদা আপনি তো জানেন, এটা উপনির্বাচন। এখানে হার জিতে সরকার বদলের কোনও সম্ভাবনা নেই…তাই আর কি…আপনি যদি একটু কনসিডার করতেন!” কুণালের প্রত্যুত্তরে বলেন, “হ্যাঁ উপনির্বাচনে তো মানুষ ক্ষময়ায় থাকা সরকারকেই চাইবে। কিন্তু আমি কি করতে পারি! আপনি যা বলছেন এতে তো অনেক বড় সমস্যা হয়ে যাবে। যা সিদ্ধান্ত নেবার জনগণ নেবে।” তবুও নাছোড় কল্যাণ বলেন, “আমি খেলাধূলার লাইনে আছি। আপনি যদি চান আপনাকে আমি যে কোনও ধরনের পদ পাইয়ে দিতে পারি!” কুণাল পাল্টা বলে, “আমার বিশেষ আগ্রহ নেই!”



