কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের সহিংসতায় নিহত ১০ বছরের তমন্না খাতুনের পরিবারের দুর্ভোগ থামছেই না। মায়ের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতিতে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। নদিয়ার শক্তিনগর জেলা হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়ার পর বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তমন্নার মা সাবিনা বিবিকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় দ্রুত স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ ও অবসাদের ওষুধ খেয়ে অচৈতন্য অবস্থায় সাবিনা বিবিকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয় এবং সেদিনই তাঁকে ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, পুরোপুরি সুস্থ না হয়েই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপরই উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিবারের তরফে জেলা পুলিশকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। তমন্নার বাবা হুসেন শেখের অভিযোগ, পুলিশের চাপেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছুটি দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “চিকিৎসা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ওঁকে জোর করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। কোনও সহযোগিতা তো পাইনি, উল্টে আমাদের উপর চাপ তৈরি করা হয়েছে। সাবিনার কিছু হলে তার দায় পুলিশের।”
তবে এই অভিযোগ নস্যাৎ করেছে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম ঘোষ জানান, চিকিৎসা ও ছুটির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসকদের বিষয়। পুলিশের এতে কোনও ভূমিকা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। গণনা শেষ হওয়ার আগেই বিজয়মিছিল বেরোয় বলে অভিযোগ, সেখান থেকেই বোমা ছোড়া হয় সিপিএম সমর্থকদের বাড়ির দিকে। সেই বোমার আঘাতেই মায়ের চোখের সামনে প্রাণ হারায় ছোট্ট তমন্না। ঘটনার পর আদালতের নির্দেশে পরিবারটির নিরাপত্তায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়; সাবিনা হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন সেখানেও পুলিশি নজরদারি ছিল।
পরিবারের দাবি, তমন্নার মৃত্যুর ঘটনায় যুক্ত অনেক অভিযুক্ত এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। কয়েক জন গ্রেফতার হলেও বাকিরা অধরা থাকায় পরিবারটিকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সন্তানের পর স্বামীকেও হারানোর আশঙ্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সাবিনা—সেই অবসাদ থেকেই আত্মহত্যার চেষ্টা বলে পরিবারের অভিযোগ। এখন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও কলকাতায় স্থানান্তরের খবরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।



