তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংঘাত এবার পৌঁছে গেল লোকসভার দরজায়। দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গালিগালাজ ও অভব্য আচরণের অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। চিঠিতে তিনি শুধু নিজের নয়, একাধিক মহিলা সাংসদের প্রতি অশালীন আচরণের অভিযোগও তুলেছেন। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
লোকসভার অধ্যক্ষকে লেখা চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে চান। তাঁর দাবি, সংসদের ভিতরে বারবার তাঁকে মৌখিকভাবে অপমান করা হয়েছে। পাশাপাশি মহিলা সাংসদদের প্রতিও অসম্মানজনক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাজারে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন কাকলি।” ফলে দুই সাংসদের সংঘাত আরও প্রকাশ্যে চলে এল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সচেতক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। এরপর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।
পরবর্তীতে সর্বভারতীয় মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের একাধিক দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন কাকলি। সেই সময় সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি দলেরই এক সাংসদের বিরুদ্ধে মহিলা সাংসদদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন।
তখন কাকলি বলেছিলেন, “যে পদে থেকে মহিলা সাংসদদের প্রতি অন্য এক অশিক্ষিত ও অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না, সেই পদে থাকার কোনও অর্থ হয় না।” যদিও সেই সময় তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি।
এবার লোকসভার স্পিকারকে সরাসরি চিঠি দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পেল। সংসদের ভিতরে দুই সাংসদের এই প্রকাশ্য সংঘাত তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তিকে আরও সামনে এনে দিল বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।



