নজরবন্দি ব্যুরোঃ অবৈধ উপায়ে চাকরি প্রাপকদের নতুন করে শূন্যপদ তৈরি করে নিয়োগ দেওয়া হবে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের এই নির্দেশ খতিয়ে দেখার জন্যেই শিক্ষাসচিব মনীশ জৈনকে তলব করেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুক্রবার সেই মামলার শুনানি চলাকালীন বেশ ক্ষীপ্ত মেজাজে দেখা গেল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। নির্বাচন কমিশনকে বলব তৃণমূল দল তুলে দিতে। বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ Anubrata Mondal: অনুব্রতর দিল্লি যাত্রার ভবিষ্যৎ কী? আজ নজর দিল্লি হাইকোর্টে
শুক্রবার আদালতে উপস্থিত হন শিক্ষাসচিব মনীশ জৈন। এদিন আদালতের কাছে তিনি বলেন, অবৈধ উপায়ে চাকরি প্রাপকদের নতুন শূন্যপদ করে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রীসভার বৈঠকে। এরপরেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলে বসেন, রাজনৈতিক দল হিসাবে তৃণমূলের নাম তুলে দিতে বলব। নির্বাচন কমিশনকে বলতে পারি তাঁদের দলের প্রতীক তুলে নিতে।
একইসঙ্গে এদিন শিক্ষাসচিবের কাছ থেকে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানতে চান, মন্ত্রীসভার বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার নোট দেখানো হোক। অবৈধ চাকরি বাঁচানোর জন্য মন্ত্রিসভা কি কোনও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা দেখান। এরপরেই বেজায় ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠেন বিচারপতি। তাঁর প্রশ্ন, অবৈধদের চাকরি বাঁচানোর জন্য কোনও মন্ত্রীসভা বৈঠক করতে পারে? আমি এটাই বোঝার চেষ্টা করছি রাজ্যের মন্ত্রিসভা কী ভাবে অবৈধ চাকরি প্রাপ্যদের চাকরি রক্ষা করতে পারে?

তাঁর কথায়, মন্ত্রীসভার তরফে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা সংবিধানের পরিপন্থী নয়। এটা শুধুমাত্র রাজ্যের জন্য নয়, সারা দেশের জন্য বিপজ্জনক। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সঠিক লোকের হাতে না যায়, তাহলে উন্নতি সম্ভব নয়। এমনকি এজন্য কমিশনকে বলে তৃণমূলের প্রতীক তুলে নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, মন্ত্রীসভাকে বলতে হবে তাঁরা অযোগ্যদের পাশে নেই। পাশাপাশি যে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করা হয়েছিল, সেই শূন্যপদ প্রত্যাহার করা হল। সেটা যদি না করা হয়, তাহলে কলকাতা হাইকোর্ট এমন পদক্ষেপ করবে।যেটা গোটা দেশে কখনও হয়নি। প্রয়োজন হলে মন্ত্রীসভার সমস্ত সদস্যদের শোকজ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে অবৈধ চাকরি প্রাপকদের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য। গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে তিনটি পৃথক আবেদন জমা করা হয়েছিল। সেই আবেদনে বলা হয়েছিল, যাদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি। তাঁরা ২-৩ বছর ধরে কর্মরত। সরকারের তরফে অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করে ওই পদে নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল। সেই আবেদনপত্র প্রত্যাহারের জন্য তাঁরা বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে যান।
নির্বাচন কমিশনকে বলব তৃণমূল দল তুলে দিতে, বিচারপতির মন্তব্য ঘিরে তোলপাড়

এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, স্কুল সার্ভিস কমিশন এই ধরনের মন্তব্য করেছেন, এই ধরনের কথা তিনি বিশ্বাস করেন না। স্কুল সার্ভিস কমিশনকে সামনে রেখে জোর করে আবেদন লেখানো হচ্ছে। স্কুল সার্ভিস কমিশনকে সামনে রেখে কোনও কোনও খেলোয়াড় গোটা বিশ্বকাপ খেলতে চাইছে। কিছু কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যারা এখনও নিয়োগ দুর্নীতির তার ধরে টানছেন। সেই সমস্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে হবে।এরপরেই শিক্ষাসচিবকে তলব করেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর নির্দেশ ছিল, কারা এই অতিরিক্ত শূন্যপদে বেআইনি নিয়োগের কথা বলছেন, তাঁদেরকে খুঁজে বের করবে সিবিআই।



