নজরবন্দি ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার অকালমৃত্যুর ঘটনায় বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসার কথা ছিল ইউজিসি প্রতিনিধি দলের। তবে, একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু জানিয়েছেন, বুধবার সেই প্রতিনিধি দল আসছে না। আপাতত রেজিস্ট্রার ঘটনার যে রিপোর্ট ইউজিসি-কে পাঠিয়েছেন, তাতে তাঁরা নাকি ‘সন্তুষ্ট’।
আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়কে নোটিস জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের, রাজ্যকেও রিপোর্ট পেশের নির্দেশ


যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে সমস্ত মহল। পশ্চিমবঙ্গ শিশু সুরক্ষা কমিশন থেকে শুরু করে মানবাধিকার কমিশন প্রত্যেকেই এই মর্মান্তিক ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছে। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অব্যাবস্থার দিকটাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু ইউজিসি-র অধীন তাই তাঁরাও অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, ইউজিসি গাইডলাইন্স অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা উচিৎ, সেটিও যেহেতু যাদবপুরে নেই, তাই সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতেই বুধবার তাঁরা আসচে চেয়েছিলেন। কিন্তু, বুধবার ইউজিসি প্রতিনিধি দল আসছে না।

বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও সাহিত্যকে ভালোবেসে বাংলা নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিল নদীয়ার বগুলা গ্রামের এক ছেলে। অথচ নিজের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে এক সপ্তাহও কাটাতে পারল না সে। তিন দিন হস্টেলে থেকেই র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে প্রাণ গেল তাঁর। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সৌরভ চৌধুরী, মনোতোষ ঘোষ এবং দীপশেখর দত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হেফাজতে রেখে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।


আর এই তদন্তে নেমে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য জানতে পারছে পুলিশ। জানা যাচ্ছে কীভাবে র্যাগিং করা হত জুনিয়রদের। বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই কুপ্রথা। হস্টেলের রাঁধুনি জানিয়েছেন, সিনিয়রদের নানা রকম কাজ করতে হত জুনিয়রদের। মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার তো চলতই, এমনকী সিনিয়রদের কথা না শুনলে রেলিংয়ের ওপর দিয়ে হাঁটতে বাধ্য করা হত।
রেজিস্ট্রারের রিপোর্টে ‘সন্তুষ্ট’, বুধে যাদবপুর ক্যাম্পাসে আসছে না UGC প্রতিনিধি দল








