নজরবন্দি ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় এবার বিশ্ববিদ্যালয়কে নোটিস পাঠাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। একই সঙ্গে নোটিস পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। মানবাধিকার কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, যা যা কারণ এই ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে তাতে এটা পরিষ্কার যে ছাত্রের মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে।
আরও পড়ুন: ছাত্রমৃত্যুর পর কী কী পদক্ষেপ করেছে যাদবপুর কর্তৃপক্ষ, UGC-কে পাঠানো হল রিপোর্ট


যাদবপুর ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় সমস্ত মহল। একদিকে তিন ছাত্রকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। আগেই পশ্চিমবঙ্গ শিশু সুরক্ষা কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, যেহেতু ছাত্রের বয়স ১৮ বছরের কম অর্থাৎ নাবালক অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে, ইয়াত ‘পকসো’ ধ্রায় মামলা করতে হবে। এবার মানবাধিকার কমিশন তাঁদের নোটিসে রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছ থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট চাওয়া হল। অন্য দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের সমস্যা সমাধানের জন্য সুপ্রিম কোর্ট নিয়োজিত রাঘবন কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলির বিষয়ে একটি বিশদ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকেও একটি নোটিস দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও সাহিত্যকে ভালোবেসে বাংলা নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিল নদীয়ার বগুলা গ্রামের এক ছেলে। অথচ নিজের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে এক সপ্তাহও কাটাতে পারল না সে। তিন দিন হস্টেলে থেকেই র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে প্রাণ গেল তাঁর। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সৌরভ চৌধুরী, মনোতোষ ঘোষ এবং দীপশেখর দত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হেফাজতে রেখে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।



আর এই তদন্তে নেমে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য জানতে পারছে পুলিশ। জানা যাচ্ছে কীভাবে র্যাগিং করা হত জুনিয়রদের। বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই কুপ্রথা। হস্টেলের রাঁধুনি জানিয়েছেন, সিনিয়রদের নানা রকম কাজ করতে হত জুনিয়রদের। মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার তো চলতই, এমনকী সিনিয়রদের কথা না শুনলে রেলিংয়ের ওপর দিয়ে হাঁটতে বাধ্য করা হত। মানবাধিকার কমিশনের এই নোটিসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবহেলার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়কে নোটিস জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের, রাজ্যকেও রিপোর্ট পেশের নির্দেশ








