নজরবন্দি ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার মৃত্যুর পর জোরালো হয়ে উঠেছে র্যাগিং তত্ত্ব। পুলিশের পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি ঘটনাটি খতিয়ে দেখা শুরু করে। একাধিক পড়ুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কমিটি কার্যত র্যাগিং তত্ত্বকেই সিলমোহর দিয়েছে। ঘটনার রাতে কী কী হয়েছিল, জানিয়েছে প্রথম বর্ষের পড়ুয়ারা।
আরও পড়ুন: র্যাগিং হয় জেনেও ‘চুপ’ ছিল কর্তৃপক্ষ, ছাত্রমৃত্যুর পর বিস্ফোরক সুপার


গত সপ্তাহে যাদবপুরের হস্টেলের তিনতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় প্রথম বর্ষের বাংলা বিভাগের পড়ুয়ার। র্যাগিংয়ের অভিযোগে সরব হয় সব মহল। প্রথম গ্রেফতার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন পড়ুয়া সৌরভ চৌধুরী। এখনও পর্যন্ত ধৃত ৯। আগামী দিনে গ্রেফতারির সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা। অভিযোগ, ঘটনার রাতে ইন্ট্রো দেওয়ার নামে নিহত পড়ুয়াকে প্রথমে বিবস্ত্র করা হয়। ওই অবস্থাতেই তাকে হস্টেলের তিনতলার রেলিংয়ে হাঁটতে বাধ্য করেন সিনিয়ররা। তদন্ত শুরু করে আভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি জানতে পারে, হস্টেল থেকে পড়ে যাওয়ার পর রাত্রিবেলা গেট বন্ধ করে চলে জিবি। চারবার জিবি মিটিং হয়।

সূত্রে খবর, ওই সময়ে পুলিশ যাতে হস্টেলের ভিতর ঢুকতে না পারে সেই কারণে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে কোন প্রশ্নের কী উত্তর দিতে হবে তাও বৈঠকে বাতলে দেন সিনিয়ররাই। এদিকে হস্টেলের গেট বন্ধ করার নেতৃত্বে ছিল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়ারা। অপরদিকে আভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের জিবি মিটিংয়ে র্যাগিংয়ের প্রমাণ লোপাটেরও চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা।



জানা গিয়েছে, প্রথম বর্ষের ২৫ জন পড়ুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যাদবপুরের আভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানতে পারে, ওই দিন হস্টেলে ঢুকেছিল প্রাক্তনীরা। মৃত্যুর ঘটনার পর ওই রাতেই হস্টেল থেকে পালিয়ে যান তাঁরা। পূর্বপরিকল্পিত ভাবেই ডিনকে ফোন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেই ধারণা তদন্ত কমিটির।
র্যাগিংয়েই মৃত্যু পড়ুয়ার! বিবস্ত্র করে হস্টেলের রেলিংয়ে হাঁটতে বাধ্য করে সিনিয়ররা








