নজরবন্দি ব্যুরো: দু চোখে স্বপ্ন ভরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল স্বপ্নদীপ কুণ্ডু। বয়স ১৮-র গণ্ডি পেরোয়নি। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করলেও নিজের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিয়েই বাংলা বিষয়টি বেছে নিয়েছিলেন প্রথম বর্ষের পড়ুয়া। কিন্তু হস্টেল জীবন শুরু হতে না হতেই এক মুহূর্তে সব শেষ। স্বপ্নদীপের রহস্যমৃত্যু শহর পেরিয়ে গোটা রাজ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল জানালেন, তদন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। শীঘ্রই রহস্য সমাধান হবে।
আরও পড়ুন: যাদবপুরকাণ্ডে গ্রেফতার আরও ২ পড়ুয়া, ধৃতদের একজন স্বপ্নদীপের রুমমেট
রবিবার রেড রোডে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। সেখানেই তিনি বলেন, “যাদবপুরের ঘটনায় রবিবার দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চলছে। এক জন ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিক সর্ব ক্ষণ তদন্ত প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন।” তিনি আরও বলেন, “মৃত পড়ুয়ার ময়নাতদন্ত হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটাই ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। আমরা তদন্ত দ্রুত শেষ করতে পারব বলেই আশা করছি।”

এই ঘটনায় যাদবপুরের প্রাক্তনী সৌরভ চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শনিবার তাঁকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। স্বপ্নদীপের মৃত্যুতে জড়িত থাকার সন্দেহে যাদবপুরের ১০ থেকে ১২ জন পড়ুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ধৃত দুজনের গতকাল রাতভর জেরা চলে। এরপর ভোররাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়য়। এই দুজন আর্টসের ছাত্র সংগঠন ‘ফোরাম ফর আর্টস স্টুটেন্ডসের’ সক্রিয় সদস্য বলেও খবর। রবিবার তাদের আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত দুই পড়ুয়ার নাম মনোতোষ ঘোষ (২০) এবং দীপশেখর দত্ত (১৯)। মনতোষের ঘরেই স্বপ্নদীপকে গেস্ট হিসেবে রাখা হয়েছিল বলে খবর। অভিযোগ, স্বপ্নদীপ হস্টেলে যাওয়ার পর থেকেই এই দুই পড়ুয়া তাকে নানাভাবে উত্যক্ত করত, মানসিক ভাবে চাপ সৃষ্টি করত। পুলিশের হাতে এই সংক্রান্ত কিছু প্রমাণও হাতে এসেছে। উল্লেখ্য, নিহত পড়ুয়ার বাবা সৌরভ চৌধুরী ছাড়াও এই মনতোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন। ঘটনার দিন রাতে কী কী হয়েছিল, পুলিশকে কি আটকানো হয়েছিল, এমনই নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ধৃত তিনজনকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও খবর।
স্বপ্নদীপ কুন্ডুর মৃত্যু রহস্যের কিনারা হবে শীঘ্রই, ‘ভরসা’ দিলেন বিনীত গোয়েল




