২১ এর মসনদের দিকে বঙ্গ বিজেপি-কে কি একধাপ এগিয়ে দিচ্ছে নাড্ডার কৌশল?

২১ এর মসনদের দিকে বঙ্গ বিজেপি-কে কি একধাপ এগিয়ে দিচ্ছে নাড্ডার কৌশল?

নজরবন্দি ব্যুরো: বাংলার প্রকৃতি সংস্কৃতির বাহক আমরাই। বর্ধমানের জন জোয়ারে রোড শো করে এমনটাই বললেন জেপি নাড্ডা । সেইসঙ্গে মমতাকে কটাক্ষ করতেও ছাড়লেন না তিনি। এদিন নাড্ডা বলেন, “মমতাজি ও তৃণমূল যে সংস্কৃতির প্রচলন করেছেন, সেটা বাংলার সংস্কৃতি নয়। এই সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।“ শনিবার কাটোয়ার সভার পর পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী রোড শো করেন নাড্ডা।

আরও পড়ুনঃ বাংলার কৃষকেরা ভালো আছেন, নাড্ডাকে পাল্টা জবাব ফিরহাদের

আর নয় অন্যায় বোর্ড লাগানো গাড়ি নিয়ে কার্জন গেট পর্যন্ত চলে নাড্ডার এই রোড শো। এখান থেকে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি সোজা চলে যান বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। তবে এবারে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির রোড শোতে ছিল মানুষের ভিড়। ডায়মন্ডহারবারের রোড শোতে নাড্ডার যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, কিন্তু পূর্ব বর্ধমানের মানুষ তাঁকে বিমুখ করেন। নাড্ডার গাড়ির সামমনে ছিল কয়েক লক্ষ মানুষের ভিড়।

গাড়ি থেকেই বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে ফুল ছুঁড়ে দিয়েছেন নাড্ডা। গাড়িতে একেবারে সামনের সারিতে আজ দেখা গিয়েছিল। তাঁর পাশেই ছিলেন দিলীপ ঘোষ সহ বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। অন্যদিকে ভিড় সামলাতে একেবারে হিমসিম অবস্থা ছিল পুলিশের। নাড্ডার গাড়ির সামনে যাতে কেউ না আসতে পারে সেজন্যে পুরো কনভয় ঘিরে রাখা হয়েছে।

ডায়মন্ডহারবারের ঘটনার পুনঃরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেজন্যেই এই বাড়তি ব্যবস্থা পুলিশের তরফে। ডায়মন্ডহারবার যাওয়ার পথে কনভয়ে হামলার ঘটনায় আগের সফরে খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাঁর। কিন্তু শনিবারের সফরে বর্ধমানের মানুষ তাঁকে আপন করে নিলেন। জানালেন উষ্ণ আথিথেয়তা। বাড়ি বাড়ি মুষ্টিভিক্ষার কর্মসূচিতে কৃষকের মন ছুঁতে চেয়েছিলেন নড্ডা। কিন্তু সেই পর্বের ছবি দেখা বোঝা গেল নড্ডার মন ছুঁয়ে নিয়েছে বাংলা। পূর্ব বর্ধমানের গ্রাম দেখিয়ে দিল বাংলার আতিথেয়তার নজির।

দূরের নড্ডাকে ঘরের করে নেওয়ার জন্য কাটোয়ার জগদানন্দ গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে শঙ্খ বাজিয়ে, উলুধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানানো হল বাংলার জামাইকে। পূর্বনির্দিষ্ট কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় সমাবেশ করেছেন নড্ডা। গত ডিসেম্বরে রাজ্যে এসে বস্তিবাসী ও মৎস্যজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করে যাওয়া নড্ডার এ বারের লক্ষ্য যে বাংলার কৃষক, তা তাঁর কর্মসূচি থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।

জগদানন্দপুরের মাঠে শনিবারের সমাবেশের নামও দেওয়া হয়েছিল ‘কৃষক সুরক্ষা সভা’। নড্ডার বক্তব্যেও বড় অংশ জুড়ে ছিল বাংলার কৃষকদের ‘বঞ্চনা করা’র প্রতিবাদ এবং তজ্জনিত কারণে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের নিন্দা। তার সঙ্গে ছিল বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী কী করা হবে তার প্রতিশ্রুতির ফিরিস্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x