ফর্ম খারাপ, পরিসংখ্যান হতাশাজনক—তবু আতঙ্ক নেই ভারতীয় শিবিরে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি ওয়ানডে সিরিজে এখনও পর্যন্ত নিজের ছায়া হয়ে রয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা। পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি উইকেট, ব্যাট হাতেও তেমন অবদান নেই। সিরিজ যখন ১-১ সমতায় দাঁড়িয়ে, রবিবারের ফাইনাল লড়াইয়ের আগে এই ফর্ম নিঃসন্দেহে প্রশ্ন তুলছে। কিন্তু ভারতীয় ড্রেসিংরুমে সেই প্রশ্নের উত্তরে রয়েছে আশ্চর্য রকমের শান্ত আত্মবিশ্বাস।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড—দু’টি সিরিজ মিলিয়ে জাদেজা খেলেছেন পাঁচটি ম্যাচ। উইকেট পেয়েছেন মাত্র একটি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি সিরিজে তো এখনও উইকেটশূন্য। দুই ম্যাচে রান দিয়েছেন ৪৪ ও ৫৬। ব্যাট হাতে যোগ হয়েছে মাত্র ৩১ রান। এই পারফরম্যান্স যে ‘জাদেজা-সুলভ’ নয়, তা মানছেন সবাই। তবু রবিবারের সিরিজ নির্ধারক ম্যাচের আগে দলকে দুশ্চিন্তায় রাখছে না এই ফর্ম।
শনিবার প্রাক-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতীয় পেসার মহম্মদ সিরাজ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, “একদমই চিন্তা নেই। একটা উইকেট পড়লেই দেখবেন জাড্ডু ভাই পুরনো ফর্মে ফিরে এসেছে।” সিরাজের মতে, দু’টি ম্যাচেই ভারতের পারফরম্যান্স মোটের উপর ভালো ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সুযোগ নষ্টই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজকোটে দ্বিতীয় ম্যাচে কেএল রাহুল ও নীতীশ রেড্ডির লড়াকু ইনিংস ভারতকে লড়াইয়ের জায়গায় পৌঁছে দিলেও, শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হাতছাড়া হয় এক জনের জন্যই—ড্যারেল মিচেল। “আমরা মিচেলের বিরুদ্ধে সব রকম প্ল্যান কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সুযোগ এলে সেটা কাজে লাগাতে না পারলে সমস্যা হয়। সেদিন যদি ওর উইকেটটা পেতাম, ম্যাচ পুরো ঘুরে যেত,” অকপট সিরাজ।
আর সেটাই বাস্তব। মিচেলের উইকেট পড়লে সিরিজ কার্যত সেদিনই শেষ হয়ে যেতে পারত। তার বদলে এখন রবিবারের ম্যাচই ফয়সালা করবে সব। নিউজিল্যান্ডের সামনে সুযোগ ইতিহাস গড়ার—ভারতে এসে কখনও ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি ব্ল্যাক ক্যাপস। সেই শাপমুক্তি হলে তা হবে বড় কীর্তি।
তবে ভারতীয় শিবিরে চাপ ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ শান্ত, আত্মবিশ্বাসী। “হার-জিত খেলাধুলোর অঙ্গ। অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। এই ধরনের সিরিজ ডিসাইডার ভারতে খেলতে পাওয়া মানে প্রায় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার মতো,” হেসে বলেন সিরাজ।
মজার ছলে বলা হলেও, কথার ওজন কম নয়। টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের পারফরম্যান্স যেখানে প্রশ্নের মুখে, সেখানে সাদা বলের ক্রিকেটই আপাতত রক্ষাকবচ। কোচ গৌতম গম্ভীর-এর উপর চাপও কম নয়। রবিবারের ম্যাচে ভারত না জিতলে, সেই চাপ যে আরও বাড়বে—তা বলাই বাহুল্য।



