নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনি আইনের প্রতিবাদে আন্দোলনকারী এবং সমর্থনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে কারণে যে হিংসার ঘটনা ছড়িয়েছিল তা পরিকল্পনামাফিক। শুক্রবার এক ব্যক্তির মৃত্যুর মামলা শুনানি চলাকালীন এমনটাই জানাল সেশন আদালত। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, দিল্লি দাঙ্গা পরিকল্পনামাফিক । চার অভিযুক্তের আচরন থেকে বোঝাই যাচ্ছে জমায়েত করে দাঙ্গা ছড়ানো এবং মানুষকে খুন করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ, খতম হিজবুলের সক্রিয় কম্যান্ডার
গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি আম্বেদকর কলেজের সামনে দীপক নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে কাশিম, শাহরুখ, আনওয়ার হুশেন এবং খালিদ আনসারির বিরুদ্ধে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায় অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই হেমোরেজিক শকে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল।
গোটা বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন ঘটনার মূল সাক্ষী সুনীল কুমার। তিনি জানিয়েছেন, দিল্লি দাঙ্গা পরিকল্পনামাফিক। ওই দিন করদমপুরী পুলিস্যার দিকে থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তারস্বরে স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে আসে। প্রত্যেকের হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র। রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় দীপককে। গোটা ঘটনাটি দেওয়ালের আড়াল থেকে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন সুনীল কুমার। আদালতের কাছে চার অভিযুক্তকে শণাক্ত করেন তিনি।
দিল্লি দাঙ্গা পরিকল্পনামাফিক, দোষীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু

বিচারপতি অমিতাভ রাওয়াত জানিয়েছেন, কীভাবে ওই সশস্ত্র চার যুবক দীপক নামে ওই ব্যক্তিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় তা সুনীল কুমারের বয়ান থেকেই স্পষ্ট হয়। এই হিংসার ঘটনা যে পরিকল্পনামাফিক। সেবিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এদিন অভিযুক্ত চার যুবকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩০২ এবং ১২০(বি) ধারা লাগু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর কেন্দ্রের নয়া নাগরিক্ত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে সারা দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। কিন্তু আন্দোলনের সমর্থনকারী এবং বিরোধি পক্ষের সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর-পূর্ব দিল্লী। ঘটনায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ৭০০ এর অধিক মানুষ।



