দলে বয়স নীতি কার্যকর করতে চান অভিষেক, অভিমানেই কি রাজনীতি থেকে সরছেন সৌগত?

Sougata Roy: একটি জনসভা থেকে সৌগত বলেন, "সাংসদ হিসাবে আমার ১৫ বছর সম্পূর্ণ হতে চলেছে। এর পর কী হবে জানি না। দল কাকে মনোনয়ন দেবে, যদি আমায় দেয়, আদৌ জিততে পারব কি না, এসব নিয়েই অনিশ্চয়তা রয়েছে।’’

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বয়স নীতিকে কেন্দ্র করেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দর থেকে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব। আর এবার একেবারে লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে সেই জল্পনাকে আরও একবার উস্কে দিলেন শাসক দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। বরানগরের একটি সভা থেকে জানালেন, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর ভোটে লড়ার অনিশ্চয়তার কথা। রবীন্দ্রনাথের কথা ধার করে দিলেন, রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিতও। সৌগত রায়ের এহেন মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট শোরগোল শুরু হয়েছে। বিষয়টি ঠিক কী?

আরও পড়ুন: জেরায় মুখে কুলুপ শাহজাহানের, রাতে কিছুই খেলেন না সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’

বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগণার বরানগরে একটি জনসভা ছিল তৃণমূলের। সেখানে দাঁড়িয়েই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন সৌগত রায়। তিনি বলেন, “সাংসদ হিসাবে আমার ১৫ বছর সম্পূর্ণ হতে চলেছে। এর পর কী হবে জানি না। দল কাকে মনোনয়ন দেবে, যদি আমায় দেয়, আদৌ জিততে পারব কি না, এসব নিয়েই অনিশ্চয়তা রয়েছে।’’ সাংসদের এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে যে অবশেষে কি রাজনীতিকে বিদায় জানাচ্ছেন সৌগত রায়? নেপথ্যে কি এমন কারণ থাকতে পারে?

দলে বয়স নীতি কার্যকর করতে চান অভিষেক, অভিমানেই কি রাজনীতি থেকে সরছেন সৌগত?
দলে বয়স নীতি কার্যকর করতে চান অভিষেক, অভিমানেই কি রাজনীতি থেকে সরছেন সৌগত?

তৃণমূল কংগ্রেসে বয়স নীতি কার্যকর করতে চান দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যে কথা প্রকাশ্যেও জানিয়েছেন তিনি। আর তা নিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন নিন্দুকরা। যদিও সে বিতর্কে জল ঢেলেছেন অভিষেক নিজেই। কিন্তু বয়স নীতির ব্যাপারটা থেকেই যাচ্ছে।

দলে বয়স নীতি কার্যকর করতে চান অভিষেক, অভিমানেই কি রাজনীতি থেকে সরছেন সৌগত?

এই সৌগত রায়কে নিয়েই একসময় মন্তব্য করেছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন বয়স-নীতির বিষয়টি সবে দানা পাকাতে শুরু করেছে। মমতার মতে, মনের বয়সটাই শেষ কথা, সেই হিসাবেই অবসরে যাওয়া উচিৎ। কোট-আনকোট তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘‘সৌগতদা বলছিলেন, বয়স হয়ে যাচ্ছে। আমি বললাম, বয়স আবার কী? মনের বয়সটাই শেষ কথা।’’

দলে বয়স নীতি কার্যকর করতে চান অভিষেক, অভিমানেই কি রাজনীতি থেকে সরছেন সৌগত?

অসমর্থিত সূত্রে খবর, বয়স-নীতির বিষয়টিকে খুব ভালোভাবে নেননি তৃণমূলের অনেক প্রবীণ সদস্যরাই। যদিও প্রকাশ্যে মন্তব্য করার মতো ধৃষ্টতা দেখাননি কেউই। তবে, অভিষেকের এই নিটি কার্যকরের নেপথ্যেও যুক্তি রয়েছে। কারণ, চিরকাল যদিও কিছু মানুষ পদ আঁকড়ে বসে থাকেন তাহলে নতুনরা জায়গা পাবেন কি করে? কিসের চাহিদায় তাঁরা দলের সঙ্গে থেকে যাবেন? তাছাড়া অনেকেই আছেন, যারা বয়েসের ভারে ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না অথচ নিজে থেকে অবসরও নিতে রাজি নন তাঁদের জন্য একটা নিয়ম তো প্রয়োজন ছিলই।

দলে বয়স নীতি কার্যকর করতে চান অভিষেক, অভিমানেই কি রাজনীতি থেকে সরছেন সৌগত?
দলে বয়স নীতি কার্যকর করতে চান অভিষেক, অভিমানেই কি রাজনীতি থেকে সরছেন সৌগত?

কিন্তু, এই বয়স নীতির ক্ষেত্রে প্রথমেই যিনি বাধা হয়ে দাঁড়ান তিনি হলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমত, তিনি দলের সর্বময় কর্ত্রী। দ্বিতীয়ত, তাঁরও বয়স হচ্ছে। কিন্তু এখনও তিনি যথেষ্ট ফিট। তবুও, বয়স নীতি কার্যকর করতে হলে সেই নীতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরেও বর্তায়। অন্তত দলগত স্বার্থে। সেক্ষেত্রে কি হতো তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল! এখন, সৌগত রায়ও অবসরের ইঙ্গিত দিলেন।

সৌগত রায় নির্বাচনে জয় নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। অথচ ইতিহাস বলছে, ২০০৯ সাল থেকে দমদম কেন্দ্র থেকে জিতে আসছেন তিনি। সেই বাম আমলে ঘাসফুল ফোটানো লোক তিনি! আবার ২০১৯ সালের গেরুয়া ঝড়ের মধ্যেও বিজেপির শমীক ভট্টাচার্যকে প্রায় ৫০ হাজার ভোটে হারান তিনি। তাহলে কি জয়ের অনিশ্চয়তা নাকি অন্য কোনও কারণ? কেন এরকম মন্তব্য করলেন সৌগত রায়?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত