আবার মুকুল-মমতা জুটি সময়ের অপেক্ষা? শুভ্রাংশুর ইঙ্গিতে ঘৃতাহুতি তৃণমূলের।

মুকুলের হাতে পাবলিক অ্যাকাউণ্টস কমিটি ছাড়ল তৃণমূল, জল্পনা তুঙ্গে রাজ্যে।
মুকুলের হাতে পাবলিক অ্যাকাউণ্টস কমিটি ছাড়ল তৃণমূল, জল্পনা তুঙ্গে রাজ্যে।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা করার আগে নিজেদের সমালোচনা করা উচিত, বিজেপি-কে হুঙ্কার দিয়ে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের তীব্র সঙ্ঘাতের আবহে বিজেপিকে তুলোধনা করলেন তিনি। এদিন এক ফেসবুক বার্তায় শুভ্রাংশু লিখেছেন, “জনগণের সমর্থন নিয়ে আসা সরকারের সমালোচনা করার আগে আত্মসমালোচনা করা বেশি প্রয়োজন!” এই পরিপ্রেক্ষিতে এবার সামনে এল তৃণমূলের মন্তব্য। আবার মুকুল-মমতা জুটি সময়ের অপেক্ষা?

আরও পড়ুনঃ ভোটে পরাজিত বিজেপি নেতা-নেত্রীদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় সরকার।

রবিবার তৃণমূলের সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, “বিজেপির অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তাঁদেরও ওঁর মতনই মনে হয়েছে। ক-জন যোগদান করবেন আমি জানি না। তবে অনেকেই যোগদান করেছেন এটা বলতে পারি।” তৃণমূল সূত্রে খবর আগামী ৫ই জুন দলীয় বৈঠকে চমক থাকবে। কমপক্ষে ৫ জন সাংসদ, ৪ জন বিজেপি নেতা নেত্রী এবং ৭ জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়েছেন। তাঁদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন নেত্রী।

এদিকে মুকুল পুত্রর মন্তব্যে যেন ঘৃতাহুতি হয়েছে। শুভ্রাংশুর পোস্ট ব্রম্ভাস্ত্রর মত বিঁধেছে বিজেপির অন্দরমহলে। বীজপুর আসনে শুভ্রাংশু তৃণমূল প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছেন ‘২১ নির্বাচনে। বিজেপির লোকসভা জয়ের কাণ্ডারী মুকুল রায়কে কার্যত বসিয়ে দেওয়া হয় বিধানসভা নির্বাচনে। একপ্রকার বাধ্য করা হয় কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে প্রার্থী হওয়ার। বিজেপির ভরাডুবির মধ্যেই নিজের আসনে জিতেছেন মুকুল। কিন্তু জেতাতে পারেননি পুত্রকে।

কিন্তু শুভ্রাংশু আচমকা কেন এমন সমালোচনা করলেন? সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, “এটা তো মানতে হবে যে একটা সরকার মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে সবে ক্ষমতায় এসেছে। তার মধ্যেই সিবিআইয়ের টানাটানি শুরু হয়েছে। তার পর মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। এ ভাবে বিরক্ত না করে আমাদের তো আত্মসমালোচনা করা উচিত।” প্রসঙ্গত, শনিবারই বিজেপি-র সংখ্যালঘু মোর্চার সহ-সভাপতির পদ ছেড়েছেন মুকুল রায়-ঘনিষ্ঠ কাশেম আলি। ২০১৭ সালে মুকুলের সঙ্গেই বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন কাশেম। ঘটনাচক্রে, সেই একই দিনে এই পোস্ট করেছেন শুভ্রাংশু।

শুভ্রাংশু তাঁর বাবা এবং মায়ের অসুস্থতা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন এদিন। তিনি বলেন, “এই যে মা এতদিন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাবাকে আজ কাচড়াপাড়ায় নিয়ে এলাম। একমাত্র শুভেন্দু দা ছাড়া দলের কেউ আমাকে বা বাবাকে ফোন করেছেন? হ্যাঁ দিব্যেন্দু দা (দিব্যেন্দু অধিকারী) ফোন করেছিলেন। তিনি তো আমার দলের কেউ না। কিন্তু আমাদের দলের কেউ তো ফোন করেননি!”

আবার মুকুল-মমতা জুটি সময়ের অপেক্ষা? ভোটে পরাজয়ের পর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া অনেকেই বেসুরো হতে শুরু করেছেন, অনেকে ফেরার আবেদন করে ওয়েটিং লিস্টে রয়েছেন, অনেকে আবার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট পর্বের মধ্যেই মুকুল রায়ের সুনাম করেছিলেন। ফল বেরোনোর পর বার্তা দিয়েছেন দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া নেতাদের। যারা ঘরে ফিরতে চায় আসতে পারে! সুতরাং অদূর ভবিষ্যতে যে বাংলার রাজনীতিতে আয়ারাম গয়ারাম চলবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here