এ বার আর লক্ষ্য ‘মিস্’ হবে না! ট্রাম্পের রক্তাক্ত মুখের ছবি দেখিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা—ইরানের

ট্রাম্পের রক্তাক্ত মুখের ছবি দেখিয়ে ‘এ বার আর লক্ষ্য মিস্ হবে না’—এমন বার্তা সম্প্রচারের অভিযোগ ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে, তীব্র কূটনৈতিক বিতর্ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার পারদ যখন চড়া, তখনই নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কে ইরান। ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর রক্তাক্ত মুখের একটি ছবি সম্প্রচার করে ‘এ বার আর লক্ষ্য মিস্ হবে না’—এমন বার্তা দেখানোর অভিযোগ উঠল ইরানের সরকার-নিয়ন্ত্রিত এক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে। এই সম্প্রচারকে কার্যত খুনের হুমকি হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ, যদিও এখনও পর্যন্ত তেহরান বা ওয়াশিংটন—কেউই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় বন্দুকবাজের হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান ট্রাম্প। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তাঁর কান ঘেঁষে বেরিয়ে যায়; রক্তে ভিজে গিয়েছিল মুখ। অভিযোগ, সেই ঘটনার ছবিই সম্প্রচার করে পার্সি ভাষায় লেখা হয়—“এ বার আর বুলেট লক্ষ্যে আঘাত হানতে ব্যর্থ হবে না।” সংবাদসংস্থা এএফপি এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে।

এই বার্তার সময়টাও তাৎপর্যপূর্ণ। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরান জুড়ে গণবিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের অভিমুখ ঘুরে গিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েকশিয়ান-এর দিকে। বিক্ষোভ দমনে তেহরান দমনপীড়নের পথে হাঁটলে সামরিক বিকল্প বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প—এমন বক্তব্যই তেহরানের অস্বস্তি বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

কূটনৈতিক মহলের মতে, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো’ নিয়ে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতেই ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে এই বার্তা। সরাসরি বক্তব্য না রেখে প্রতীকী ছবি ও বাক্যের মাধ্যমে ‘সতর্কবার্তা’ দেওয়া হয়েছে—এমন ব্যাখ্যাও উঠে আসছে। তবে এই সম্প্রচার আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রসঙ্গত, পেনসিলভেনিয়ার ওই ঘটনায় বন্দুক হাতে এক যুবক ট্রাম্পের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। গুলিবর্ষণের পর অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন ট্রাম্প। ওই বছরের শেষেই হওয়া নির্বাচনে জিতে তিনি দ্বিতীয় বারের জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হন। সেই পুরনো ক্ষতই কি নতুন করে রাজনীতির আগুনে ঘি ঢালছে—তা নিয়েই এখন বিশ্ব রাজনীতির জল্পনা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত