পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন এখনও জ্বলছে, তবে তার মধ্যেই শান্তির ইঙ্গিত দিল তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানালেন—যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত ইরান, তবে তার জন্য মানতে হবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এই ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে নতুন কূটনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানান, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের অবসান সম্ভব, যদি আন্তর্জাতিক মহল ইরানের কিছু মৌলিক দাবি মেনে নেয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে চলা সংঘাত বন্ধ করতে ইরান প্রস্তুত, এমনকি আরব উপসাগরীয় দেশগুলির বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও বন্ধ করা হবে—তবে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে।
পেজেশকিয়ানের দেওয়া তিনটি মূল শর্ত হল—
প্রথমত, আন্তর্জাতিক মহলকে ইরানের ‘বৈধ অধিকার’ স্বীকার করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক হামলার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনও আগ্রাসন হবে না—এই মর্মে শক্ত আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি দিতে হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার পরই তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর মতে, এই শর্তগুলি মানা হলে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানো সম্ভব।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের উপর যৌথ হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েল। সেই হামলার জেরে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। তবে এই পরিস্থিতির মাঝেই যুদ্ধ থামানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, ইরানের উপর হামলায় অনেক লক্ষ্যই ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়েছে এবং তিনি চাইলে যেকোনও সময় সংঘাত থামাতে পারেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং দেশটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি এও জানান, অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি না ফেরা পর্যন্ত সংঘাত পুরোপুরি শেষ হবে না।
অন্যদিকে, বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। বৃহস্পতিবার সকালেও ইরান ও ইজ়রায়েলের মধ্যে পাল্টা হামলার খবর মিলেছে। ফলে শান্তির বার্তা এলেও আপাতত যুদ্ধ থামার কোনও স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।



