ইন্টারনেট ও ফোন পরিষেবা বন্ধ, তবু দমে যায়নি ক্ষোভ। ইরানের ৩১টি প্রদেশেই সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি। এই উত্তাল পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা—অত্যাচারের পরিণতি পতন, আর বিদেশি শক্তির ‘ইন্ধনদাতা’দেরও রেহাই নেই।
শুক্রবার রাতে ভাষণ ও সমাজমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে Ayatollah Ali Khamenei সরাসরি নিশানা করেন Donald Trump-কে। তাঁর বক্তব্য, “অহংকারে বিশ্বকে বিচার করা শাসকেরা ইতিহাসে বারবার ক্ষমতার শীর্ষ থেকে পতিত হয়েছে।” এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান “বড় বিপদের মুখে”, প্রয়োজনে আবার সামরিক হস্তক্ষেপের কথাও তোলেন।


বিক্ষোভের বিস্তার ঠেকাতে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দেশজুড়ে ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। ইন্টারনেট স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা NetBlocks জানিয়েছে, আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় এই ‘শাটডাউন’। কিন্তু মাঠের খবর বলছে, এতে উল্টো ক্ষোভ বেড়েছে। রাজধানী Tehran-সহ একাধিক শহরে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। নিহত ও আটক সংখ্যায় ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে আসছে—কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন মৃতের সংখ্যা কয়েক ডজন এবং আটক কয়েক হাজার বলে জানিয়েছে; সরকারি তরফে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ হয়নি।
এই টানটান পরিস্থিতির সূত্রপাত গত ২৭ ডিসেম্বর। মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রথমে তেহরানে দোকানদারেরা পথে নামেন। দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে এবং অর্থনৈতিক দাবির গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি শাসনব্যবস্থার বিরোধিতায় রূপ নেয়—রাষ্ট্রপতি Masoud Pezeshkian-এর সরকার ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে।
বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ হয় নির্বাসিত যুবরাজ Reza Pahlavi-র গণপ্রতিবাদের ডাকে। তার পরপরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ ওঠে। পুলিশের বিরুদ্ধে নির্বিচার বলপ্রয়োগের অভিযোগও শোনা যাচ্ছে—যদিও সরকার তা মানেনি।


ঘটনাচক্রে, The New York Times-কে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, বিদেশে সেনা ব্যবহারের প্রশ্নে তাঁর ক্ষমতা ‘নৈতিকতা’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, আন্তর্জাতিক আইন নয়। ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে বিমানহানা বা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণের প্রসঙ্গ টেনে ক্ষমতার সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তাঁর জবাব—নিজস্ব নীতিই একমাত্র রাশ।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের নারী-স্বাধীনতা আন্দোলনের মতোই এ বারও দমন-পীড়নের পথেই হাঁটছে তেহরান। তবে ইন্টারনেট শাটডাউন সত্ত্বেও আন্দোলনের বিস্তার দেখিয়ে দিচ্ছে—ক্ষোভের তাপমাত্রা এখন আর ভার্চুয়াল নয়, পুরোপুরি রাস্তায়।







