হরমুজ় প্রণালী দখল দাবি ইরানের, জাহাজের ভিড়ে স্তব্ধ বিশ্ব বাণিজ্যপথ! রণতরী পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

হরমুজ় প্রণালী দখল দাবি ইরানের পর বিশ্ব তেল বাণিজ্যপথে অচলাবস্থা। শ’য়ে শ’য়ে জাহাজ আটকে, তেল সরবরাহ রক্ষায় মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ ট্রাম্পের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

হরমুজ় প্রণালী দখল দাবি ইরানের—এই ঘোষণা ঘিরেই নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল বাণিজ্যপথ কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণে। ইতিমধ্যেই শ’য়ে শ’য়ে জাহাজ আটকে রয়েছে প্রণালীতে, ফলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। পরিস্থিতির জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালী পার করানোর জন্য।

ওমান ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ় প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। মাত্র প্রায় ৪০ কিলোমিটার চওড়া এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়। দুই জাহাজ পাশাপাশি চলাচল করলে তাদের মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরত্ব থাকে।

ইরান–আমেরিকা উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর থেকেই এই জলপথকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক হামলার পর ইরান প্রণালীতে কার্যত অবরোধ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে তৈরি হয়েছে জট—অনেক জাহাজই না এগোতে পারছে, না পিছোতে।

ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, হরমুজ় প্রণালী এখন তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফের উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কেউ যদি এই প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তাহলে সেই জাহাজ ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে।

ইরান ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে—রাশিয়া ও চিন ছাড়া অন্য কোনও দেশের তেলবাহী জাহাজ আপাতত হরমুজ় প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তেলবাহী জাহাজ প্রণালীর মুখে আটকে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকার নৌবাহিনী তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালী পার করাবে। পাশাপাশি আমেরিকার ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স কর্পোরেশনকেও (DFC) আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ় প্রণালীতে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে। তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ভারতেও এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী জানিয়েছেন, দেশের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ভারত প্রস্তুত। পাশাপাশি রাশিয়াও জানিয়েছে, প্রয়োজনে ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে তারা পাশে থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত