মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার পৌঁছে গেল বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চেও। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ২০২৬ সালের FIFA World Cup 2026 বয়কট করার হুঁশিয়ারি দিল ইরান। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী Ahmad Donyamali জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সুপ্রিম লিডার Ali Khamenei-কে হত্যা করেছে—এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
বুধবার ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ক্রীড়ামন্ত্রী। তাঁর দাবি, “আমেরিকার দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা কোনওভাবেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারি না।”

এটাই প্রথমবার ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল। এতদিন পর্যন্ত এই বিষয়ে কথা বলেছিল ইরানের ফুটবল ফেডারেশন, কিন্তু সরকার সরাসরি কিছু জানায়নি।
উল্লেখ্য, এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে প্রথম দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছিল ইরান। সেই দলই এবার টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে বৈঠক করেন ফিফা প্রেসিডেন্ট Gianni Infantino। তার কিছুদিনের মধ্যেই ইরানের এই অবস্থান সামনে আসে।


যদিও ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ইরান যদি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে চায়, তবে ফিফা তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে United States, Canada এবং Mexico। তবে ইরানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ছিল মূলত আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটেলে।

বিশ্বকাপে ইরানের সম্ভাব্য সূচি
গ্রুপ G-তে রয়েছে ইরান।
-
১৬ জুন: নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ
-
২২ জুন: বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচ
-
২৭ জুন: মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচ
কিন্তু ইরান যদি সত্যিই টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে বড় সমস্যায় পড়তে পারে ফিফা। সেক্ষেত্রে তাদের ম্যাচ সূচি বদলাতে হবে বা অন্য কোনও দলকে সুযোগ দিতে হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর প্রথম হামলা চালায় ইজরায়েল, পরে সেই সংঘাতে যোগ দেয় আমেরিকাও। যুদ্ধের প্রথম ১২ দিনেই অন্তত ১,২৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও রাজনীতির ছায়া পড়তে পারে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।








