ক্রিকেটের পরে এ বার ফুটবল বিশ্বকাপও রাজনৈতিক বিতর্কে জর্জরিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও কয়েক মাস বাকি, তার আগেই আমেরিকাকে ঘিরে বয়কটের দাবি তুলছে একাধিক দেশ। অভিবাসন নীতি, ভিসা জটিলতা ও আন্তর্জাতিক আগ্রাসনের অভিযোগে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে ইউরোপের শক্তিশালী ফুটবল দেশগুলি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, আমেরিকায় খেলতে যেতেই চাইছে না অন্তত তিনটি দেশ—ফলে চাপে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো—এই তিন দেশে বসছে ফুটবল বিশ্বকাপ। মোট ১১৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৪টি ম্যাচই হবে আমেরিকার মাটিতে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অভিবাসন আইন, একাধিক দেশের নাগরিকদের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং সীমান্তে হয়রানির অভিযোগে বিশ্বকাপের পরিবেশ নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


‘আমেরিকা এড়িয়ে চলুন’—প্রাক্তন ফিফা কর্তার বিস্ফোরক মন্তব্য
ফিফার প্রাক্তন ‘স্বাধীন পরিচালন কমিটি’-র চেয়ারম্যান, সুইৎজ়ারল্যান্ডের আইনজীবী মার্ক পিয়েত সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সরাসরি ফুটবলপ্রেমীদের আমেরিকা সফর না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমেরিকায় ঢুকতে গেলে এখন সীমান্তে যে ধরনের হেনস্থা করা হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। ফুটবলপ্রেমীদের বলব—আমেরিকা থেকে দূরে থাকুন।”
পিয়েতের এই মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন ফিফার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার। তাঁর সাফ কথা, “আমার মনে হয় পিয়েত একদম ঠিক বলেছেন। আমেরিকায় বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত। এমনকি বয়কটও হতে পারে একমাত্র পথ।”
ইনফান্তিনো–ট্রাম্প ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন
ফিফার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো–র সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। অভিযোগ উঠছে, সেই রাজনৈতিক সখ্যতার জেরেই আমেরিকায় বিশ্বকাপের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া হলেও ফিফা কার্যত নীরব। এমনকি ট্রাম্পকে ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়াকেও অনেকে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের উদাহরণ বলে মনে করছেন।


কোন কোন দেশ বয়কটের পথে?
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ফলে ইতিমধ্যেই সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ইরান ও হাইতির মতো দেশের নাগরিকদের উপর আমেরিকায় প্রবেশে কড়াকড়ি জারি হয়েছে। অথচ এই দেশগুলিই বিশ্বকাপে অংশ নেবে। ফলে সমর্থকেরা কীভাবে মাঠে গিয়ে খেলা দেখবেন, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।
এই আবহেই সরব হয়েছে ইউরোপের দেশগুলি।
-
ডেনমার্ক প্রকাশ্যে বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি তুলেছে, বিশেষ করে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির প্রেক্ষিতে।
-
জার্মানি–র ফুটবল সংস্থার সহ-সভাপতি ওক গটলিচ বলেছেন, “কাতার বিশ্বকাপে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছিল। এখন আমেরিকার ক্ষেত্রেও একই ছবি। এটাই হয়তো বয়কটের সঠিক সময়।”
-
জার্মানির পাশে দাঁড়িয়েছে নেদারল্যান্ডস। সেখানে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ একটি পিটিশনে সই করে দাবি জানিয়েছেন—আমেরিকায় গিয়ে খেলার বদলে বিশ্বকাপ বয়কট করুক তাঁদের দল।
বাড়ছে চাপ, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
ইউরোপের একের পর এক শক্তিশালী দেশের এই অবস্থান বিশ্বকাপ আয়োজনের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। এক দিকে ফিফার উপর চাপ বাড়ছে, অন্য দিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ট্রাম্প প্রশাসনও অস্বস্তিতে। ক্রিকেট বিশ্বকাপে বয়কট ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পরে ফুটবল বিশ্বকাপেও যদি একই ছবি দেখা যায়, তবে তা বিশ্ব ক্রীড়াজগতের জন্য এক বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



