নজরবন্দি ব্যুরোঃ পথের জীবনে ইতি ঘটল ইরাদেবীর। কিছুদিন আগেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর শ্যালিকা ইরাদেবীকে ‘পথে’ খুজে পায় একটি সংবাদমাধ্যম। ইরাদেবীর খবর আর ছবি মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়ে মুঠোফোনে। খবর কানে যায় বুদ্ধবাবু এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কানেও। দ্রুত পদক্ষেপ নেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। ১২ বছর পর পেনশন হাতে পেয়ে অভিষেক এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ পুজোর আগেই পড়ুয়াদের আঁধার নথিভুক্তকরণ, শিক্ষকদের কড়া নির্দেশ স্কুল শিক্ষা দফতরের।


একসময়ের মনপ্রান দিয়ে শিক্ষাদান করা শিক্ষিকা কোনদিন সামনে আসতে দেননি মুখ্যমন্ত্রীর শ্যালিকা পরিচয়। সেই ইরাদেবীর পেনশন চালু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আপাতত ১৩ হাজার ৯৮৫ টাকা করে পেনশন পাবেন ইরা বসু। এই সব কিছুর পেছনে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইরাদেবী যখন হাসপাতালে তখন লোক পাঠিয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর উদ্যোগেই ইরাদেবীর পেনশন চালু হল আবার। তাই ইরাদেবীও অভিষেকের প্রতি উজাড় করে দিয়েছেন তাঁর স্নেহ। অভিষেক এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
এদিন তিনি বলেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক কে ধন্যবাদ। আমি অভিষেক কে আগেই অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়েছি এখন আবার জানাচ্ছি।” কিন্তু কেন পেনশন পাননি এতদিন? উত্তরে মীরা দেবী বলেন ২০০৯ সালের এপ্রিলে রিটায়ার্ড হয়েছিলেন তিনি। সেই সময় পেনসন দফতর থেকে বলা হয় ‘আপনার MSC সার্টিফিকেট আর রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দরকার।’ কিন্তু তাঁর কিছুদিন আগেই সেই সার্টিফিকেট আর রেজিস্ট্রেশন নাম্বার তিনি স্কুল কে জমা দিয়েছিলেন।
তাই শেসব জমা করতে পারেন নি। কিছুদিন সময় চেয়ে নেন জমা করার জন্যে। ‘কিন্তু রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতিতে আর তা পাওয়া হয়ে ওঠেনি।’ ইরাদেবী বলেন, সেই সময় বাম সরকার ছিল, চাইলে হয়ত কথা বলে ডকুমেন্ট বার করা যেত, কিন্তু আমি কাউকে কিছু বলিনি। যেমন এখনও কাউকে কিছু বলিনি। আর যারা বলছেন বাম আমলে চাকরি পেয়েছি, তাঁদের বলছি আমি চাকরি পেয়েছি রাজ্যে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার এক বছর আগে।


১লা মে থেকে এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হচ্ছে। রাজ্যের নির্দেশ ১ লা মে ২০০৯ অর্থাৎ তাঁর অবসরের সময় থেকেই নির্দেশিকা কার্যকর হবে। অর্থাৎ মাসিক পেনশান তো বটেই, বকেয়া টাকাও পাবেন তিনি। অর্থাৎ এবার পথের জীবনে ইতি ইরাদেবীর।
অভিষেক এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, পেনশন পেয়ে আপ্লুত ইরাদেবী জানালেন অপ্রাপ্তির কাহিনী।








