নজরবন্দি ব্যুরোঃ আমন্ত্রিত শুভেন্দু অথচ নাম নেই দিলীপের! তিনি বলেছেন ‘অন্য কাজ’ আছে আজ। আর তাতেই রঙ চড়ছে রাজনীতিতে। ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে আজ ওড়িশা-বাংলা সফরে আসছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আসবেন বাংলায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করার কথা কলাইকুন্ডায়।
আরও পড়ুনঃ মোদির সঙ্গে থাকবেন শুভেন্দু! কলাইকুন্ডার বৈঠকে ‘না’ মমতার
কাল নবান্ন থেকে মমতা নিজে জানিয়েছিলেন, আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী আসবেন, আমাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে, আমি যাবো। তবে রাত বাড়তেই শুরুও হয়েছে বিতর্ক সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এবং শুভেন্দু অধিকারীকে। সূত্রের খবর আমন্ত্রন জানানো হয়েছিলো প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকেও।

কিন্তু রাজনৈতিক থেকে ওয়াকিবহাল মহল সকলেই অবাক, মোদি-মমতার বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী আমন্ত্রন পেলেও ব্রাত্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আজকের বৈঠক প্রসঙ্গে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সাফ জানিয়েছেন তাঁকে আমন্ত্রন জানানো হয়নি। সঙ্গে অবশ্য জানিয়েছেন তাঁর অন্য কর্মসুচি আছে। মেদিনীপুরের বিপর্যস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ব্যস্ত থাকবেন দিন ভর বলেই জানিয়েছেন তিনি।
তবে যেখানে আমফানের সময় গেরুয়া শিবিরের উচ্চ দফতর রাজ্যের বিজেপি নেতাদের ওপরই ভরসা রেখেছিলেন, ক্ষয়ক্ষতির হিসেব টুকু পর্যন্ত তাঁদের থেকে নিয়ে মিলিয়ে নিয়েছিলেন, সেখানে এবারে বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে আমন্ত্রণ না জানানোর প্রসঙ্গে শুরু হয়েছে একাধিক রাজনৈতিক জল্পনা। সঙ্গে মোদি-মমতার বৈঠকে শুভেন্দু-দেবশ্রীর উপস্থিতি নিয়েও ইতিমধ্যে নবান্ন থেকে নেতিবাচক বার্তা পাঠানো হয়েছে দিল্লিতে।
কাল রাতে মোদির সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিদের তালিকা দিতেই নবান্ন’র তরফ থেকে জানানো হয়েছে শুভেন্দুর উপস্থিতি অভিপ্রেত নয়। তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে সেই পদে বসেননি। তাই তিনি এখনো পর্যন্ত কেবল মাত্র বিজেপির বিধায়ক। তবে শুভেন্দুর স্বীকৃতির একটি পত্র আজ দলের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে আমফানের চাল চুরি-ত্রিপল চুরি একাধিক অভিযোগের পর ক্ষয়ক্ষতির হিসেব দেখস থেকে ত্রাণ পাঠানো মুখ্যমন্ত্রী ‘দল’ নয় রাশ রাখছেন ‘প্রশাসন’এর হাতে।
আমন্ত্রিত শুভেন্দু অথচ নাম নেই দিলীপের! রাজ্য সভাপতির ‘অন্য কাজ’ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি দিল্লিতে থাকার কারণে এই মুহুর্তে থাকতে পারবেন না বৈঠকে, শুভেন্দুর থাকার কথায় বিরক্ত মমতাও গররাজি উপস্থিত থাকতে। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে আলোচনার শীর্ষে উঠে আসছে বিরোধি দলনেতা হিসেবে না বসেও কেবল মাত্রি বিধায়ক হয়ে শুভেন্দু অধকারী আমন্ত্রোণ পেলেও ব্রাত্য কেনো বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ?



