দিল্লীর অক্সিজেন উত্তরপ্রদেশে পাঠাতে বলেছে কেন্দ্র, হাইকোর্টে বিস্ফোরক উৎপাদনকারী সংস্থা!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ দিল্লীর অক্সিজেন উত্তরপ্রদেশে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। তাই দিল্লীকে অক্সিজেন দেওয়া যাচ্ছেনা! দিল্লী হাইকোর্টে এই বিস্ফোরক অভিযোগ করল অক্সিজেন উৎপাদনকারী সংস্থা আইনক্স। দিল্লির চিত্র বলতে গত কয়েকদিন যেটা ফুটে উঠছে তা হল বিভৎস এক ছবি। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা দাহ করার জায়গা, কোথাও বা লোকালয়ে সাজানো হচ্ছে চিতা। ঝলমলে রাজধানীর ছবিতে শুধু স্বজন হারানো চিৎকার আর চিতার আগুন। যা খুব স্বাভাবিক ভাবেই উস্কে দিয়েছিলো গত বছরের নিউ ইয়র্কের ছবি।

আরও পড়ুনঃ বিতর্ক দূরে সরিয়ে স্টারলাইট কপারকেই অক্সিজেন তৈরির বরাত দিল সুপ্রিম কোর্ট।

যদিও পরিসংখ্যান বলছে গত বছরের নিউ ইয়র্কের যে সাদা চাদরে ঢাকা থরে থরে রাখা মৃতদেহ দেখে আঁতকে উঠেছিল সাধারণ মানুষ, তার পরিমাণ ছিল ৮ হাজার। দিল্লিতে এই মুহূর্তে যে পরিমাণ টা বহুগুন বেশি। অক্সিজেনের অভাবে কার্যত শ্বাসরুদ্ধ অবস্থা দিল্লীর। হাহাকার চলছে অক্সিজেনের। ভাইরাসের দাপটে প্রবল শ্বাসকষ্টে প্রাণ হারাচ্ছেন বহু মানুষ। ভাঁড়ারে ফুরিয়ে আসছে অক্সিজেন। জায়গা নেই শ্মশান ঘাটে, ভর্তি হচ্ছে কবর স্থান।

পার্কিং লটের জায়গায় থরে থরে সাজানো চিতা। কোথাও কোলের শিশু ফেলে রেখে মারা গিয়েছেন বাবা মা, কোথাও সদ্য বিবাহিত স্বামী স্ত্রীর দেহ জায়গার অভাবে জমে রয়েছে পার্কিং লটে। দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল হাত জোড় করে প্রধানমন্ত্রীকে বলছেন অক্সিজেন দিন, অক্সিজেন চাই, রাতে ঘুম আসছে না চিন্তায়। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে আইনক্সের দাবি তোলপার ফেলে দিয়েছে দিল্লীজুড়ে। সাড়া দেশের ৮০০ টি হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ করে আইনক্স।

দিল্লীর অক্সিজেন উত্তরপ্রদেশে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র! সংস্থার দাবি, দেশের অন্য কোন রাজ্যের হাসপাতাল থেকে অভিযোগ না এলেও অভিযোগ এসেছে দিল্লী থেকে। কিন্তু তাঁদের হাত পা বাঁধা। কারন কেন্দ্রের নির্দেশে দিল্লীর জন্যে বরাদ্দ অক্সিজেনের বেশীরভাগটাই পাঠাতে হচ্ছে উত্তরপ্রদেশে। আইনক্স আদালতে জানিয়েছে, “দিল্লীর জন্যে বরাদ্দ ১০৫ মেট্রিকটনের যায়গায় দিল্লী সরকার ১২৫ মেট্রিকটন অক্সিজেন চাইছে, এদিকে কেন্দ্র নির্দেশ দিয়েছে দিল্লীকে ৮০ মেট্রিকটন অক্সিজেন দিয়ে বাকিটা উত্তরপ্রদেশে পাঠিয়ে দিতে! এই অবস্থায় আমরা কি করব?”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত