নজরবন্দি ব্যুরোঃ মুকুল ঘনিষ্ঠের পাঠানো তালিকা বাতিল করলেন দিলীপ। প্রকাশ্যে গোষ্ঠী কোন্দল। বিজেপির মত সাংগঠনিক এবং শৃঙ্খলা পরায়ন দলেও দ্বন্দ্বের ঘটনা সামনে এল এবার। ভারতীয় জনতা পার্টির মূল পার্টি এবং যুব সংগঠনের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বিজেপির রাজ্য যুব মোর্চা সৌমিত্র খাঁর দলীয় কোন্দল। সূত্রের পাওয়া খবর অনুযায়ী, শুক্রবার বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ ২৯ টি জেলার যুব সভাপতিদের নামের তালিকা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুনঃ দেশে রেকর্ড করোনা আক্রান্ত, অপরদিকে খুলে যাচ্ছে অনেক কিছু!
সৌমিত্র খাঁর সেই তালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই তা মুছে দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। হঠাৎ করেই কেন তালিকা দিয়েও তা মুছে দেওয়া হল? এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন যে ওটা যুব মোর্চার জেলা সভাপতিদের চূড়ান্ত তালিকা নয়। তাই তুলে নেওয়া হয়েছে। পরে তালিকা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে। তিনি সৌমিত্র খাঁ কে বলেছেন, রাজ্য বিজেপি পার্টি চূড়ান্ত না করতেই সে কি করে ওই তালিকা পাঠিয়ে দিল।
তবে সৌমিত্র খাঁ-র বক্তব্য, ওই তালিকা যে চূড়ান্ত তালিকা নয়, সেকথা তাকে কেউ জানায়নি। আর যুব সভাপতির এক মন্তব্য এবং রাজ্য সভাপতির আর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এখন টালমাটাল বিজেপির অন্দরমহল। অনেকে বলছেন, মুকুল রায়ের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের দ্বৈরথের কথা সকলেরই জানা। বিজেপির অভ্যন্তরীণ এই চর্চা নিয়ে ব্যস্ত। আর এমত পরিস্থিতিতে একসময় তৃণমূলের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এই মুকুল রায়ের হাত ধরেই যোগদান করেছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে।
তারপর থেকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বিজেপির সৌমিত্রবাবুকে মুকুলবাবুর লোক হিসেবেই ধরে নিয়েছিল। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার পর যুব মোর্চার সভাপতি মুকুল রায়ের অনুগামী বলে পরিচিত সৌমিত্র খাঁ কে দেওয়ার উপর বেশ ভালোই সমস্তকিছু চলছিল। কিন্তু এবার হঠাৎ করে বিভিন্ন জেলায় যুব মোর্চার সভাপতি তালিকায় নিয়ে তৈরি করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে না করতেই দীলিপবাবু সৌমিত্রর তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন।
মুকুল ঘনিষ্ঠের পাঠানো তালিকা বাতিল করলেন দিলীপ। বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে মুকুল রায় বনাম দিলীপ ঘোষের দ্বৈরক আরও একবার সামনে এল। অনেক রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে যদি এভাবেই চলতে থাকে তাহলে রাজ্যের ক্ষমতা দখল তো দূরের ভাবনা। বিরোধী আসন জুটবে কিনা তা নিয়ে তর্ক বিতর্কের অবকাশ সৃষ্টি হবে।



