নজরবন্দি ব্যুরো: ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল ম্যাচের মধ্যেই দাঙ্গা। পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার কানজুরুহা স্টেডিয়ামের একটি ম্যাচ ঘিরে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। প্রথমে খবর এসেছিল দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে নিহত অন্তত পক্ষে ১২৯ জন। পরে সে সংখ্যা বেড়ে ১৫০ ছুঁয়েছে। আরও মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এরমধ্যে অনেকে পদপিষ্টও হন। নিহতদের মধ্যে শিশু, পুলিশও রয়েছে।
আরও পড়ুন: জোড়া নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, কেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া
পূর্ব জাভা প্রদেশের ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ প্রধান নিকো আফিন্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ঘটনায় ১২৭ জন মারা গিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা। ৩৪ জন স্টেডিয়ামের ভিতরেউ মারা গিয়েছেন এবং বাকিরা হাসপাতালে মারা গিয়েছেন।’ পুলিশ ঝামেলা বন্ধ করতে গেলে, তা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে প্রচুর পরিমাণে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। যার ফলে ধোঁয়ার মেঘ তৈরি হয়েছিল। এটাও ছিল পদদলিত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ।
এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার এবং তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ক্রীড়া এবং যুব উন্নয়ন মন্ত্রী জাইনুদিন আমালি বলেন, ‘এই ঘটনার জন্য আমরা দুঃখিত। এতে দেশের ফুটবল ক্ষতিগ্রস্ত হল। ম্যাচের সাংগঠনিক ব্যবস্থায় কোনও ভুলত্রুটি ছিল কিনা খতিয়ে দেখা হবে। কত সমর্থক স্টেডিয়ামে হাজির ছিল সেটাও দেখা হবে। স্টেডিয়ামে খেলা দেখা থেকে সমর্থকদের বিরত রাখা হবে কিনা সেটাও আলোচনা করা হবে।’

এই ঘটনার জেরে এক সপ্তাহের জন্য সমস্ত ফুটবল ম্যাচ বাতিল করেছে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। বাকি মরশুম ঘরের মাঠে ম্যাচ আয়োজনের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে আরেমা এফসির থেকে। ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএসএসআই) শনিবার গভীর রাতে এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি জারি করেছে।
ফুটবল ম্যাচের মধ্যেই দাঙ্গা, নিহত অন্তত পক্ষে ১২৯ জন

বিবৃতে জানায়, ‘পিএসএসআই কাঞ্জুরুহান স্টেডিয়ামে আরেমা সমর্থকদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত। আমরা দুঃখিত এবং ঘটনার জন্য নিহতদের পরিবার এবং সমস্ত পক্ষের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। সেই জন্য পিএসএসআই অবিলম্বে একটি তদন্ত দল গঠন করেছে এবং অবিলম্বে সেই দল মালাংয়ে গিয়েছে।’



