টাকার ঐতিহাসিক পতন! ডলারের কাছে সর্বনিম্ন দামে রেকর্ড, কেন চাপ বাড়ছে ভারতীয় মুদ্রার উপর?

বিশ্ব বাজারের অস্থিরতার জেরে ডলারের তুলনায় সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেল টাকা। বিদেশি লগ্নি প্রত্যাহার ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনে বাড়ছে চাপ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ল ভারতীয় মুদ্রাবাজারেও। শেয়ার বাজারের টালমাটাল অবস্থা, বিদেশি লগ্নি প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘিরে অনিশ্চয়তার আবহে বুধবার ডলারের তুলনায় ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেল টাকা। একদিনে এত বড় পতন বাজারকে নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে—প্রশ্ন উঠছে, এই ধস কি সাময়িক, নাকি আরও গভীর সংকেত দিচ্ছে?

বুধবার ইন্টারব্যাঙ্ক ফরেন এক্সচেঞ্জে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে টাকার দাম নেমে দাঁড়ায় ৯১.২৮-এ, যা এখনও পর্যন্ত সর্বনিম্ন। দিনের শুরুতে টাকার ওপেনিং ছিল ৯১.০৫-এ। মঙ্গলবার যেখানে ক্লোজিং হয়েছিল ৯০.৯৭-এ, সেখান থেকে এক লাফে ৩১ পয়সা পড়ে নতুন রেকর্ড গড়ে ফেলল ভারতীয় মুদ্রা। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ডলারের তুলনায় টাকার সর্বনিম্ন দর ছিল ৯১.১৪।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের মূল কারণ বাজারের সামগ্রিক অস্থিরতা। গত কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। সাম্প্রতিক কালে গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইউরোপের একাংশের মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক জটিলতা নতুন করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে। তার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব শেয়ার বাজারে—সপ্তাহের শুরু থেকেই ধারাবাহিক পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই আবহে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা ঝুঁকি কমাতে ভারত-সহ উদীয়মান বাজার থেকে বিনিয়োগ সরাচ্ছেন। ফলে টাকার উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ডলার তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকেই ঝুঁকছেন।

ফরেক্স বাজারের বিশেষজ্ঞ Amit Pabari মনে করছেন, পরিস্থিতি আপাতত স্বস্তির নয়। তাঁর কথায়, “বাজারে এমনিতেই অস্বস্তির আবহ রয়েছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য জটিলতা বাড়িয়েছে। ইউএস ট্রেজারি ইয়েল্ড চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি টানা দু’দিন ডলারের দামে ওঠানামা হয়েছে। এই সব মিলিয়েই টাকার উপর বাড়তি চাপ পড়ছে।”

সব মিলিয়ে, টাকার এই ঐতিহাসিক পতন শুধু মুদ্রাবাজারের খবর নয়—এর প্রভাব পড়তে পারে আমদানি খরচ, মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও। এখন নজর থাকবে, পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজার ও নীতিনির্ধারকরা কী পদক্ষেপ নেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত