ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী—সোমবার নয়াদিল্লিকে এই বার্তাই পাঠাল ট্রাম্প প্রশাসন। সময়টি একেবারেই ইঙ্গিতপূর্ণ। কারণ তার আগের দিনই চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী, আর সোমবার বেলা গড়াতেই বৈঠকে বসলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে।
এই বৈঠক শুরু হওয়ার মাত্র আধঘণ্টা আগে, ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায়, ভারতের মার্কিন দূতাবাসের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয় মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর বিবৃতি। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়, ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক গভীর ঐতিহাসিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


রুবিয়োর বক্তব্যে উঠে এসেছে অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক দারুণ সম্ভাবনাময়। অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন—রাশিয়া থেকে তেল আমদানি চালু রাখার কারণে ভারতীয় পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশে বাড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে এই ইতিবাচক বার্তার অর্থ কী?
মার্কিন দূতাবাসের পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, একবিংশ শতকে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক একটি দৃষ্টান্ত। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিনা প্রভাব ঠেকাতেই দীর্ঘদিন ধরে নয়াদিল্লির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। ভারত ‘কোয়াড’-এর সদস্যও বটে, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনা আগ্রাসন মোকাবিলায় অন্যতম কৌশলগত মঞ্চ।
তবে ট্রাম্পের শুল্কনীতি বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলেছে এই সম্পর্ককে। ওয়াশিংটনের ভেতরেই সমালোচনা হয়েছে, শুল্ক আরোপ ভারতের সঙ্গে কৌশলগত বোঝাপড়া দুর্বল করে দিচ্ছে।


অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বৈঠকে নতুন মোড় নিয়েছে ভারত-চিন সম্পর্ক। জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন মোদী। সেই সঙ্গে ভারতকে পাশে পাচ্ছে রাশিয়াও। তাই ভূরাজনীতির চিত্র বদলাচ্ছে—তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলন ঘিরে মোদী, পুতিন ও জিনপিংয়ের কাছে আসা যেন এক নতুন ত্রিদেশীয় অক্ষ গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই সম্ভাবনাই উদ্বেগ বাড়িয়েছে আমেরিকার। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ইতিবাচক বার্তা মূলত এক ধরনের কূটনৈতিক বার্তা—যাতে নয়াদিল্লি যেন চিন-রাশিয়ার দিকে বেশি ঝুঁকে না পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে যেখানে বিশ্বশক্তিগুলির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। আমেরিকার কৌশলগত বার্তা সেই ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।








