টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াই—ভারত বনাম পাকিস্তান—আদৌ মাঠে গড়াবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফের সিদ্ধান্তের উপর। আইসিসি, পিসিবি এবং রাজনৈতিক স্তরের টানাপোড়েনের মাঝে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই বহুচর্চিত ম্যাচের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে।
সূত্রের খবর, এই ম্যাচ নিয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফ। তার আগে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। চলতি সপ্তাহেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়টি ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও আইসিসির সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনায় বসেছে পিসিবি, তবু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক স্তর থেকেই নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। পিসিবি চেয়ারম্যান এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির সঙ্গে বৈঠকের পরই শরিফ নিজের অবস্থান জানাবেন।
খবর, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নকভি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। সেখানে তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কায় নির্ধারিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে অংশগ্রহণ নিয়ে আইসিসির অনুরোধ সম্পর্কে মতামত চাইবেন। শীর্ষ সূত্রের দাবি, সব দিক খতিয়ে দেখেই প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এই পরিস্থিতির সূত্রপাত লাহোরে আইসিসি ও পিসিবির বৈঠকের পর। সম্প্রতি পাকিস্তান ভারত ম্যাচ বয়কট করতে পারে—এমন জল্পনার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলামও।
সূত্রের দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হওয়ার আগে আইসিসির সামনে একাধিক শর্ত রেখেছে পিসিবি। সেগুলির মধ্যে রয়েছে—
১) আইসিসির রাজস্বে পাকিস্তানের অংশ বৃদ্ধি,
২) ভারত–পাক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ফের চালু করা,
৩) আইসিসি টুর্নামেন্টে হাইব্রিড মডেল বজায় রাখা,
৪) বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ।
পিসিবির একাংশ কর্তা শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হলেও, চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এখনও বয়কটের অবস্থানেই রয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। ফলে এখন সব নজর শেহবাজ় শরিফের সিদ্ধান্তের দিকে—ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ আদৌ হবে কি না, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলতে পারে খুব শিগগিরই।



