জাপানের পর এ বার জার্মানিকে টপকানোর পথে ভারত! ২০৩০-এর মধ্যেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দাবি কেন্দ্রের

জাপানকে টপকে চতুর্থ স্থানে ভারত, ২০৩০ সালের মধ্যেই জার্মানিকে ছাপিয়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দাবি কেন্দ্রের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্ব অর্থনীতির মঞ্চে ভারতের উত্থান আর অনুমানের স্তরে নেই— এ বার তা সময়সীমা বেঁধে ঘোষণা করল কেন্দ্র। চলতি বছরেই জাপানকে পিছনে ফেলে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির জায়গা দখল করেছে ভারত। আর আগামী তিন বছরের মধ্যেই জার্মানিকেও টপকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে দেশ— এমনটাই দাবি করল নরেন্দ্র মোদী সরকারের।

মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বাজার, টেকসই পরিকাঠামোগত সংস্কার এবং ধারাবাহিক উচ্চ বৃদ্ধির হার— এই তিনের জোরেই ভারত দ্রুততম বিকাশশীল অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও পোক্ত করছে। সরকারের দাবি, সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০৩০ সালের মধ্যেই ভারত জার্মানিকে ছাপিয়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে। তখন ভারতের সামনে থাকবে শুধু আমেরিকা ও চিন।

বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির আকার প্রায় ৪.১৮ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি বছরের শুরুতেই আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা Morgan Stanley পূর্বাভাস দিয়েছিল, মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ভারত তৃতীয় স্থানে উঠে আসবে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যেই ভারতের জিডিপি পৌঁছতে পারে ৫.৭ লক্ষ কোটি ডলারে— যা জার্মানির অর্থনীতিকেও ছাপিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।

জাপানের পর এ বার জার্মানিকে টপকানোর পথে ভারত! ২০৩০-এর মধ্যেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দাবি কেন্দ্রের
জাপানের পর এ বার জার্মানিকে টপকানোর পথে ভারত! ২০৩০-এর মধ্যেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দাবি কেন্দ্রের

সরকারি বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপি ৭.৩ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধি কোনও এককালীন সাফল্য নয়, বরং ধারাবাহিক সংস্কার, পরিকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ এবং উৎপাদনমুখী নীতির ফল বলেই দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.২ শতাংশ— যা আগের ত্রৈমাসিকের ৭.৮ শতাংশ এবং তার আগের অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকের ৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধিকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ ও মন্দার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও গত ছ’টি ত্রৈমাসিকের মধ্যে এই বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ— যা ভারতের অর্থনৈতিক ভিত কতটা মজবুত, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে কেন্দ্র। কয়েক মাস আগে NITI Aayog-এর সিইও বি ভি আর সুব্রহ্মণ্যনও দাবি করেছিলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে

সব মিলিয়ে, পরিসংখ্যান ও পূর্বাভাসের নিরিখে ভারতের অর্থনৈতিক যাত্রা এখন আর ‘সম্ভাবনা’ নয়— বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও সময়সীমার দিকে দ্রুত এগোনোর গল্প। জাপানের পর জার্মানি— পরের লক্ষ্য এখন স্পষ্ট, আর সেই লক্ষ্য পূরণে ভারত যে আত্মবিশ্বাসী, তা আর গোপন নয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত