পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আবহে বড় বার্তা দিল কেন্দ্র। সোমবার সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতে এখনই কোনও জ্বালানি সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং প্রয়োজনীয় মজুদ ও বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কয়েক দিনের মধ্যেই সরবরাহ পুরোপুরি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
সোমবার পরিবহন, পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশে জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনও সমস্যা নেই।


সূত্র অনুযায়ী, সরকারের হিসাব বলছে বর্তমানে ভারতের কাছে ৭৮ দিনেরও বেশি জ্বালানি মজুদ রয়েছে। এই মজুদ দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সমস্যার ক্ষেত্রেও একটি সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করবে বলে কেন্দ্রের বক্তব্য।
বৈঠকে সার আমদানির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। কারণ দেশের উল্লেখযোগ্য অংশের সার আমদানি হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প আমদানি পথ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে সরকারি স্তরে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্র যে কৌশল নিয়েছে, তার মূল ভিত্তি তিনটি— কৌশলগত জ্বালানি মজুদ বজায় রাখা, আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।


অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশের জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রল ও ডিজেলের দাম একাধিকবার বেড়েছে। এর প্রভাব পরিবহণ খরচ ছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে কেন্দ্রের বার্তা স্পষ্ট— আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে এবং জ্বালানি সরবরাহে যাতে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে। এখন নজর থাকবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি কত দ্রুত স্থিতিশীল হয় তার উপর।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



