হরমুজে যুদ্ধের প্রভাব: তেলবাহী জাহাজ আটকে, জ্বালানি সংকট সামলাতে নৌসেনা পাঠানোর ভাবনায় ভারত

ইরান–আমেরিকা সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ। আটকে ভারতের তেলবাহী জাহাজ। জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কা সামলাতে নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ। এরই মধ্যে সেখানে আটকে পড়েছে ভারতের তেলবাহী একাধিক জাহাজ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করে আনতে ভারতীয় নৌসেনার রণতরী পাঠানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার—এমনই ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন সূত্রে।

যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে জানা যাচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ভারত। পশ্চিম এশিয়ার এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরান ও আমেরিকার সংঘাতের প্রেক্ষিতে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে—এই পথে কোনও জাহাজ প্রবেশ করলে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলিও এখন সেই পথে জাহাজ চালাতে অনীহা দেখাচ্ছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালীর দুই প্রান্তে জমে রয়েছে অসংখ্য তেলবাহী জাহাজ, যার মধ্যে ভারতীয় জাহাজও রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের তেলবাহী জাহাজগুলিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে নৌবাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন জাহাজ মালিকরা। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই ভারতীয় নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মঙ্গলবার জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব যাতে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মকভাবে না পড়ে, সেই বিষয়ে বিভিন্ন দফতরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।

তবে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি বলেই ইঙ্গিত মিলছে। রান্নার গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন শহরে। এলপিজি সিলিন্ডরের অভাবের জেরে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও পুনের মতো শহরে অনেক হোটেল ও রেস্তরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই রান্নার গ্যাসের দাম একধাক্কায় প্রায় ৬০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। যদিও কেন্দ্রের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বহু জায়গায় এখনও সময়মতো গ্যাসের ডেলিভারি মিলছে না বলে অভিযোগ উঠছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত