অপারেশন সিঁদুরের পর ১ লক্ষ কোটিরও বেশি বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা বাজেটে বরাদ্দ ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা

২০২৬–২৭ বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ। অপারেশন সিঁদুরের পর আধুনিকীকরণে জোর, বৃদ্ধি ১৫.৩ শতাংশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অপারেশন সিঁদুরের অভিজ্ঞতার পর জাতীয় নিরাপত্তায় জোর বাড়াল কেন্দ্র। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ এক লাফে ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার কোটি টাকা—গত বছরের তুলনায় ১ লক্ষ ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি বৃদ্ধি। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ স্পষ্ট করলেন, আধুনিকীকরণ, দেশীয় উৎপাদন এবং আত্মনির্ভরতার উপর ভর দিয়েই প্রতিরক্ষা শক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় সরকার।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা বরাদ্দ ছিল ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা। সেই অঙ্কের তুলনায় এ বার বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১৫.৩ শতাংশ—যা সাম্প্রতিক বছরগুলির মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। এর মধ্যে আধুনিকীকরণের জন্য বরাদ্দ ২ লক্ষ ১৯ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবর্ষের তুলনায় ২১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির সঙ্গে সঙ্গত রেখে দেশীয় প্রযুক্তিতে সমরাস্ত্র উৎপাদনে বিশেষ জোর দিয়েছে কেন্দ্র।

গত বছর অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটিতে অভিযানে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্রের কার্যকারিতা সামনে আসে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১২ মে এক ভাষণে বলেছিলেন, “এই অভিযানে ভারতে তৈরি অস্ত্রগুলির কার্যকারিতা দৃঢ় ভাবে প্রমাণিত হয়েছে।” সেই অভিজ্ঞতার প্রতিফলনই এ বারের বাজেটে দেখা যাচ্ছে বলে মত প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ১১ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার লক্ষ্য স্থির হয়েছে—যেখানে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে এই হার ছিল ৮ শতাংশ। বর্তমানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের প্রায় ৬৫ শতাংশ দেশেই তৈরি। আমদানি নির্ভরতা আরও কমাতে এই হার বাড়ানোর রূপরেখা রাখা হয়েছে বাজেটে।

এই লক্ষ্য পূরণে বিমান ও বিমান ইঞ্জিন নির্মাণের জন্য ৬৩,৭৩৩ কোটি টাকা আলাদা করে বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। তবে বাজেটের এই অঙ্ক নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। প্রাক্তন সেনাকর্তাদের একাংশের মতে, বেতন ও পেনশনের জন্য বরাদ্দ ৬.৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.৭১ লক্ষ কোটি টাকা হওয়ায় মূল কেনাকাটায় চাপ পড়তে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত রাফাল সংগ্রহ বা স্থলসেনার প্রয়োজনীয় জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্রের মতো প্রকল্পে অর্থসংস্থান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

তবুও সার্বিক ভাবে প্রতিরক্ষা বাজেটের এই রেকর্ড বৃদ্ধি ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও নিরাপত্তা ভাবনায় এক নতুন দিশা নির্দেশ করছে—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত