গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিন শেষে আরও শক্ত জায়গায় ভারত। দেবদত্ত পাড়িক্কলের (Devdutt Padikkal) দুরন্ত ১৬৭, কেএল রাহুলের (KL Rahul) ৮২ এবং ধ্রুব জুরেলের (Dhruv Jurel) কার্যকর ৫১ রানের সৌজন্যে ৯ উইকেটে ৪৬০ রান তুলে ফেলেছে টিম ইন্ডিয়া। দিনের বড় অংশ বৃষ্টিতে নষ্ট হলেও ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছে ভারত। কিন্তু এত বড় স্কোরের পরও দ্বিতীয় দিনের শেষে ডিক্লেয়ার না করায় উঠছে প্রশ্ন—বৃষ্টির পূর্বাভাস মাথায় রেখেও কেন ঝুঁকি নিলেন গৌতম গম্ভীররা?
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল (Shubman Gill)। শুরুটা ভালো করেছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal) ও কেএল রাহুল। কিন্তু ভারতের স্কোর ৩২-এ পৌঁছতেই ভুল বোঝাবুঝির জেরে রান আউট হয়ে ফিরে যান যশস্বী। এরপর রাহুলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ১৫০ রানের জুটি গড়েন পাড়িক্কল।
সাই সুদর্শন চোটের কারণে এই টেস্টে না থাকায় তিন নম্বরে সুযোগ পেয়েছেন পাড়িক্কল। সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছেন বাঁহাতি ব্যাটার। প্রথম দিনেই শতরান পূর্ণ করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় দিনে আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। বৃষ্টির কারণে দিনের প্রায় দু’টি সেশন নষ্ট হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত ১৬৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন পাড়িক্কল। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও একটি ছক্কা।
প্রথম দিনের শেষে চোটের কারণে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন রাহুল। দ্বিতীয় দিনে ফের ব্যাট করতে নেমে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত ৮২ রানে থামতে হয় ভারতীয় ওপেনারকে। তাঁর আউটের পর ভারতীয় ইনিংসে খানিকটা চাপ তৈরি হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
ঋষভ পন্থও (Rishabh Pant) বড় রান করতে পারেননি। ৩৯ রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার। রবীন্দ্র জাদেজার (Ravindra Jadeja) ব্যাট থেকেও এল মাত্র ১৩ রান। তবে সেই জায়গায় দলের ইনিংসকে ধরে রাখেন ধ্রুব জুরেল।
সরফরাজ খান (Sarfaraz Khan) দলে থাকায় জুরেলকে ছয় নম্বরে খেলানো হবে কি না, তা নিয়ে ম্যাচের আগে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু তাঁর উপর আস্থা রেখেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই আস্থার জবাবও দিচ্ছেন জুরেল। ৬৮ বলে ৫১ রান করেন তিনি। ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা রয়েছে।
বোলিং বিভাগেও ভবিষ্যতের জন্য নজর কাড়ছেন মানব সুথার (Manav Suthar)। রবীন্দ্র জাদেজার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে তাঁকে। আফগানিস্তানের পর শ্রীলঙ্কার মাটিতেও ব্যাট হাতে কার্যকর ভূমিকা রাখলেন তিনি। ইনিংসের শেষ দিকে ২৪ রান যোগ করে ভারতের স্কোরকে আরও এগিয়ে দেন সুথার।
শ্রীলঙ্কার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল প্রভাত জয়সূর্য (Prabath Jayasuriya)। ১০৯ রান খরচ করে চারটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। কিন্তু ভারতীয় ব্যাটিংয়ের গভীরতার সামনে শ্রীলঙ্কার বোলাররা বড় কোনও ব্রেকথ্রু তৈরি করতে পারেননি।
তবু দ্বিতীয় দিনের শেষে ভারতীয় শিবিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ডিক্লেয়ার নিয়ে। ৪৬০/৯-এর জায়গা থেকে ভারত চাইলে দিনের শেষ দিকে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে পারত। তাতে শেষ বিকেলের পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের উপর চাপ তৈরি করার সুযোগ পাওয়া যেত।
কিন্তু গলের আবহাওয়া এই সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তুলেছে। দ্বিতীয় দিনের প্রায় দু’টি সেশনই বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। ফলে পরের দিনগুলিতেও বৃষ্টি ম্যাচের সময় কমিয়ে দিতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের কাছে প্রতিটি সেশন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (World Test Championship) লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে জয় ছাড়া অন্য কোনও ফল ভারতের জন্য খুব একটা কার্যকর হবে না।
অন্যদিকে ৪৬০/৯-এ থেমে গিয়ে ভারত আরও কিছু রান যোগ করে শ্রীলঙ্কাকে বড় ব্যবধানে পিছনে ফেলতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তৃতীয় দিনে দ্রুত ইনিংস গুটিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোই এখন ভারতের মূল লক্ষ্য হতে পারে। তবে বৃষ্টি যদি ফের বড় ভূমিকা নেয়, তাহলে দ্বিতীয় দিনে ডিক্লেয়ার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েই ম্যাচের পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত গলের আকাশই হয়তো ঠিক করে দেবে ভারতের এই কৌশল কতটা সফল। রানের পাহাড় তৈরি হয়ে গিয়েছে, এখন সেই সুবিধাকে জয়ে পরিণত করতে হলে দ্রুত উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি আবহাওয়ার সঙ্গেও লড়তে হবে শুভমন গিলের দলকে।



