নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিশ্বের বৃহত্তম চাল রপ্তানিকারক দেশ ভারত সব ধরনের চাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ জন্য বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বিষয়টিকে সামনে এনেছে দেশটির সরকার। ভারতের এ সিদ্ধান্তের কারণে নতুন করে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই খবর রয়টার্সের।
আরও পড়ুনঃ হতাশার মধ্যেও ক্ষণিকের স্বস্তি! ৮০ দিন পর শর্তসাপেক্ষে ইন্টারনেট ফিরল মণিপুরে
ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আবার গত এক মাসে দেশের অভ্যন্তরে খুচরা বাজারে চালের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটেই চাল রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ভারত চাল রপ্তানি বন্ধ করায় বিশ্বব্যাপী খাদ্যসংকট তৈরি হতে পারে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে আইএমএফ (IMF) জানাল, তারা ভারতকে চাল রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে অনুরোধ করবে। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার দাবি, ভারতের সিদ্ধান্তে গোটা বিশ্বের মুদ্রাস্ফীতির উপর প্রভাব ফেলবে।যা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিশ্ব বাজারে একাই ৪০ শতাংশ চাল রপ্তানি করে থাকে ভারত। কমবেশি ১০০টি দেশ ভারতের এই খাদ্যশস্য কেনে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রেতা চিন, বেনিন, সেনেগাল, টোগো ইত্যাদি দেশগুলি।ভারতের সিদ্ধান্তের ফলে ৮০ শতাংশ চাল রপ্তানি আটকে গিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েই চিন্তায় পড়েছে আইএমএফ।রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী বছর ভারতে লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই খাদ্যের মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল হিসেবে চাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।
বিশ্বে খাদ্যসংকট হতে পারে, চাল রপ্তানিতে ভারতকে নিষেধাজ্ঞা তোলার অনুরোধ করল আইএমএফ

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে চাল রপ্তানি সীমাবদ্ধ করার পর গম রপ্তানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছিল তারা। রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বিভি কৃষ্ণা রাও রয়টার্সকে বলেন, ‘রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে গমের বাজারে ইউক্রেনের তুলনায় ভারত বিশ্বব্যাপী চালের বাজারকে অনেক বেশি গতিতে ব্যাহত করবে।’



