চড়া শীত, ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই ফের বড়সড় আবহাওয়ার বদলের ইঙ্গিত। বর্ষশেষে দেশজুড়ে আবহাওয়ার চাকা ঘুরতে চলেছে বলে স্পষ্ট জানাল India Meteorological Department (IMD)। নতুন করে একটি পশ্চিমা ঝঞ্ঝা সক্রিয় হতে চলেছে, যার প্রভাবে উত্তর থেকে দক্ষিণ— একাধিক রাজ্যে বাড়বে বৃষ্টি, তুষারপাত, কুয়াশা ও শীতজনিত দুর্ভোগ। নববর্ষের আগেই এই আবহাওয়াগত অস্থিরতা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছে আবহাওয়া দফতর।
দেশের বিস্তীর্ণ অংশে ইতিমধ্যেই একটি পশ্চিমা ঝঞ্ঝার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। কোথাও শুরু হয়েছে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, আবার কোথাও কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডায় নাজেহাল জনজীবন। এই অবস্থায় আইএমডি জানিয়েছে, ৩০ ডিসেম্বর থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারতে আরও একটি নতুন পশ্চিমা ঝঞ্ঝা ঢুকতে চলেছে। এর জেরে শীতল উত্তর-পশ্চিমি হাওয়ার প্রবাহে সাময়িক বাধা এলেও, তার পর ফের পারদের ওঠানামা শুরু হবে।


আবহাওয়ার সিস্টেম: একের পর এক পশ্চিমা ঝঞ্ঝা
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীর এলাকায় একটি পশ্চিমা ঝঞ্ঝা সক্রিয় রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার উত্তর-পশ্চিম ভারতে নতুন করে আরেকটি ঝঞ্ঝা প্রবেশ করবে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতে সক্রিয় রয়েছে সাব-ট্রপিক্যাল ওয়েস্টার্লি জেট স্ট্রিম।
উত্তরবঙ্গের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। গালফ অফ মানার ও কোমোরিন এলাকাতেও আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয়, যার প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।

উত্তর ও মধ্য ভারতের অবস্থা
শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি রয়েছে রাজধানী দিল্লি, পঞ্জাব, চণ্ডীগড়, হরিয়ানা ও রাজস্থানে। দিল্লি-এনসিআর এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার পাশাপাশি তাপমাত্রা আরও নামতে পারে।
ছত্তীসগড় ও মধ্যপ্রদেশেও শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। পূর্ব উত্তরপ্রদেশে ‘চরম শীতল দিন’-এর সম্ভাবনা রয়েছে। বিহার ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে চলবে ‘শীতল দিনের’ পরিস্থিতি।
পাহাড়ে তুষারপাত, সমতলে কুয়াশা
আইএমডি জানিয়েছে, উত্তর ভারতের পার্বত্য এলাকায় একযোগে দুটি পশ্চিমা ঝঞ্ঝা সক্রিয় হতে চলেছে। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের উচ্চতর অঞ্চলে বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা প্রবল। পর্যটকদের জন্য নতুন করে তুষারপাত দেখার সুযোগ তৈরি হলেও, পাহাড়ি রাস্তায় যান চলাচলে সমস্যা বাড়তে পারে।
উত্তর পঞ্জাবের কিছু অংশে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। অন্য দিকে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে কুয়াশা অব্যাহত থাকবে।


ঘন কুয়াশার চরম সতর্কতা
ঘন কুয়াশার চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে দিল্লিতে। উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা ও চণ্ডীগড়ে কুয়াশার দাপট সবচেয়ে বেশি থাকবে।
বিহার, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশেও ঘন কুয়াশা দেখা যাবে। উত্তরবঙ্গ, সিকিম ও ওড়িশাতেও কুয়াশা ঘন হওয়ার সম্ভাবনা।
মধ্যপ্রদেশ ও হিমাচল প্রদেশে কুয়াশা থাকবে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও ত্রিপুরাতেও কুয়াশার দাপট চলবে। জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ ও মুজাফফরাবাদেও কুয়াশার সতর্কতা জারি হয়েছে।
দক্ষিণ ও উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি
বর্ষশেষে দক্ষিণ ভারতেও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
বাংলার আবহাওয়া: শীত থাকবে, তবে পারদ বাড়বে
পশ্চিমবঙ্গে বর্ষশেষের দিনগুলি শীতের আমেজেই কাটবে। তবে নববর্ষের শুরুতে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে তাপমাত্রা।
কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে রয়েছে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে ১০ ডিগ্রির আশপাশে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, বুধবার থেকে ধীরে ধীরে পারদ বাড়তে পারে। শুক্রবারের মধ্যে রাজ্যে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বর্ষশেষে দেশজুড়ে শীত, কুয়াশা ও বৃষ্টির দাপটের মধ্যেই আবহাওয়ার একাধিক পরিবর্তনের মুখে পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষ। নববর্ষের আগে সতর্ক থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি।








