নজরবন্দি ব্যুরোঃ “আমি চাইনি শূন্য হোক” বাম-কংগ্রেসের অস্তিত্বসঙ্কট নিয়ে মুখ খুললেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। দুই দল মিলিয়ে প্রায় ৪০ বছর রাজ্য শাসন করেছিল। সেই দুই দল বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস এবারের নির্বাচনে হাত মিলিয়ে জোট গড়ে তুলেছিল। আর নির্বাচনের ফল বেরনোর পর দেখা যাচ্ছে স্বাধীনতার পর নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দুই দল। সেই ‘৫২ সাল থেকে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার দুই দলের স্কোরসিটে নাম্বার শূন্য।
আরও পড়ুনঃ চাকদহের জয়ী বিজেপি প্রার্থী বঙ্কিম ঘোষের উপর হামলার অভিযোগ শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে।


অর্থাৎ খাতা খুলতে পারেনি কেউই। তারপরেই রাজ্যে রীতিমতো অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে দুই দল। অন্যদিকে ফের আসন সংখ্যায় ডাবল সেঞ্চুরি হাকিয়ে ক্ষমতার হ্যাট্রিক করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। আর আজ জ্যের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এসে এই দুই দলের অস্তিত্ত্ব সঙ্কট নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। কিছুটা আক্ষেপের সুরে তাঁকে বলতে শোনা গেল “আমি চাইনি কেউ শূন্য হয়ে যাক। ওরা নিজেদের এতটাই বিজেপির দিকে ঠেলে দিয়েছে যে নিজেরাই সাইনবোর্ড হয়ে গেছে। বিজেপির চেয়ে ওরা কিছু থাকলে ভালো হত।”
এরপরেই সিপিআইএম-লিবারেশন দলের প্রসঙ্গ টেনে তাঁকে বলতে শোনা গেল “কই দীপঙ্কর ভট্টাচার্যরা তো এরকম করেনি!” প্রসঙ্গত কিছুদিন আগে বিহারের ভোটে ভাল ফল করেছিল বামেরা। আরজেডি, কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে ছিল, সিপিএম, সিপিআই, লিবারেশনও। জয়ের পর দীপঙ্করবাবু বলেছিলেন “বাংলায় বিজেপিকে ঠেকাতে তৃণমূলকে সঙ্গে নেওয়া উচিত বামেদের। বিজেপি-তৃণমূলকে কিছুতেই এক আসনে বসানো ঠিক হবে না।” আজ সেই প্রসঙ্গ টেনে খোঁচা দিতে ভুললেন না মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে দীপঙ্করেরে ব্যাখ্যা মেনে নেয়নি সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বরং সীতারাম ইয়েচুরিরা বলেছিলেন, বাংলায় তৃণমূলকে সমর্থন করা মানে বিজেপির দিকে আরও ভোট বাড়িয়ে দেওয়া। কারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে। তবে ভোটের ফল সীতারাম নয় দীপঙ্করের ব্যাখ্যাকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে।
“আমি চাইনি শূন্য হোক” বাম-কংগ্রেসের অস্তিত্বসঙ্কট নিয়ে মুখ খুললেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। দেখা গিয়েছে, ধর্মনিরপেক্ষ ভোট মমতার দিকে ঢেলে পড়েছে। যদিও অনেকেই মনে করছেন তৃণমূলও হয়তো ভাবেনি বাম-কংগ্রেস শূন্য হবে। তাই এদিন দিদি একথা বলেছেন। যদিও এই নিয়ে বাম কংগ্রেস কারোর থেকেই কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি। হারের পর তারা কার্যত মানসিকভাবেই ভেঙ্গে পরেছেন।










