মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্য। তৃণমূল কংগ্রেস নাকি তাঁর দলের সঙ্গে আসন রফার প্রস্তাব দিয়েছে—এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। তাঁর বক্তব্য, মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের মধ্যে ১৪টি আসন ছাড়তে চেয়ে শাসকদলের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে সেই প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জেলায় তৃণমূলকে শূন্য করে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
রবিবার রেজিনগরের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন বলেন, “একসময় আমাকে ভরতপুরে টিকিট দেবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। আর এখন বলছে, ২২টা আসনের মধ্যে ১৪টা তুমি নিয়ে নাও, ৮টা আমরা নিই—আমাদের সঙ্গেই থাকো। লজ্জা করে না? আমি ২২টা আসনেই ওদের শূন্য করব।”

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে ভরতপুর থেকে জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন। তবে গত কয়েক মাসে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। শেষপর্যন্ত তৃণমূল তাঁকে সাসপেন্ড করে। তার পরই নতুন দল গঠন করেন তিনি। নতুন দল গঠনের পর থেকেই শাসকদলকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন হুমায়ুন।
এদিন তিনি আরও দাবি করেন, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর মিলিয়ে মোট ৪৯টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই লড়াইয়ে নামবেন। রেজিনগরবাসীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “আমার দলের যেই প্রার্থী হোক, এখানে অন্তত ৭৮ হাজার ভোটের লিড চাই।”
শুধু আসন সমীকরণ নয়, রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকেও তীব্র আক্রমণ করেন হুমায়ুন। তিনি অভিযোগ করেন, খিদিরপুরে গেলে তাঁকে ঘিরে হামলার চেষ্টা হয়েছিল। অতীতে সিপিএমের বিরুদ্ধে রাজনীতি করতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা হয়েছিল এবং ৮১ দিন জেলেও থাকতে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।


হুমায়ুনের এই দাবি ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, “যদি হুমায়ুনের দাবি সত্যি হয়, তাহলে তৃণমূল চাপে পড়েছে। ভোট কাটাকাটিতে তাদের ক্ষতি হতে পারে, সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে।”
তবে হুমায়ুনের এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।








