ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে কূটনৈতিক টানাপড়েনের আবহে বড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। আইসিসির কাছে তোলা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবিই একেবারে খারিজ হয়ে গেছে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হস্তক্ষেপ থেকে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট—কোনও ক্ষেত্রেই মধ্যস্থতার দায়িত্ব নিতে রাজি নয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান কি সত্যিই ভারত ম্যাচ বয়কটের পথে হাঁটবে?
রবিবার রাতে আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে তিনটি মূল দাবি তোলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। প্রথম দাবি ছিল, ভারতকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে রাজি করাতে আইসিসি যেন হস্তক্ষেপ করে। পিসিবির যুক্তি, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ বা আইসিসি ইভেন্টের প্রেক্ষিতে এই বিষয়টি তোলা যেতে পারে। কিন্তু আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলির বিষয়—এতে তাদের কোনও আইনি অধিকার নেই।
দ্বিতীয় দাবি ছিল, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করা। এই প্রস্তাবও সরাসরি নাকচ করে আইসিসি। সংস্থার বক্তব্য, ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন বা সূচি নির্ধারণ তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
তৃতীয় দাবি হিসেবে পাকিস্তান চেয়েছিল, ভারতকে বছরের শেষে বাংলাদেশ সফরে যেতে বাধ্য করা হোক। এখানেও একই অবস্থান নেয় আইসিসি—দ্বিপাক্ষিক সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের এখতিয়ারের বাইরে।
বৈঠকে আইসিসির তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, তারা কোনও রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপের মধ্যে পড়ে সিদ্ধান্ত নেবে না। এমনকি বাংলাদেশকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা শাস্তি সংক্রান্ত আলোচনাতেও একই অবস্থান বজায় রেখেছে সংস্থাটি।
এই বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, এত তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকা হয়েছিল যে অনেক বোর্ড কর্তার কাছেই খবর পৌঁছায়নি। মাঝরাতে লাহোরে পৌঁছতে হয়েছিল তাঁকে। যদিও এই বিতর্ক থেকে বাংলাদেশ আগেই নিজেদের দূরে রেখেছে।
এখন মূল প্রশ্ন, পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ভারত ম্যাচ খেলবে কি না। সূচি অনুযায়ী, কলম্বোয় প্রথমে আমেরিকার বিরুদ্ধে নামবে পাকিস্তান দল। তার পরে নির্ধারিত রয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ। পিসিবি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, বাংলাদেশ ইস্যুতে সংহতি দেখিয়ে ভারত ম্যাচ বয়কট করা হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
মাঠের ভেতরে পারফরম্যান্সের চাপ, আর বাইরে কূটনৈতিক টানাপড়েন—দুই মিলিয়ে জটিল পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট। আপাতত স্পষ্ট, আইসিসি এই রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে জড়াতে রাজি নয়। ফলে সিদ্ধান্তের বল এখন পুরোপুরি পাকিস্তানের কোর্টেই।




