বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আবারও সরব হলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। মুম্বইয়ের ওরলিতে সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশে থাকা হিন্দুদের দেশ ছেড়ে পালানোর বদলে সেখানেই থেকে লড়াই করা উচিত। তাঁর কথায়, “আপনারা যদি লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে বিশ্বের সব হিন্দুরা আপনাদের পাশে দাঁড়াবে।”
‘সংঘ যাত্রার ১০০ বছর: নিউ হরাইজনস’ শীর্ষক দুই দিনের অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ তোলেন ভাগবত। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর খুন, মারধর ও অগ্নিসংযোগের মতো একাধিক ঘটনা ঘটছে। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ১.২৫ কোটি হিন্দু এখনও বাংলাদেশে বাস করেন এবং তাঁদের সেখানেই থেকে নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করা উচিত।


দেশভাগের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে শরণার্থীদের আসার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সংঘপ্রধান। তাঁর অভিযোগ, শরণার্থীদের আড়ালে রোহিঙ্গা ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরাও ভারতে ঢুকছে, যার ফলে দেশের জনসংখ্যা ও ডেমোগ্রাফিতে পরিবর্তন ঘটছে। নাম না করে আগের কংগ্রেস সরকারকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেন তিনি।
ভাগবতের বক্তব্য, “দেশের ডেমোগ্রাফি বদলে যাচ্ছে। জন্মহার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশই এর প্রধান কারণ।” এই ইস্যুতে তিনি বর্তমান বিজেপি সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং সফল হবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়। তার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। ব্যবসায়ী, শ্রমিক, ছাত্র—কেউই এই আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।


পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা দ্বিগুণ হলেও হিন্দু জনসংখ্যার অনুপাত কমে এসেছে। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, সেখানে হিন্দুদের সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ শতাংশে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, ১৯৬৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ হিন্দু বাংলাদেশ ছেড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে হিন্দুদের নিজেদের অধিকার রক্ষায় লড়াইয়ের আহ্বান জানান আরএসএস প্রধান।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



