তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। যে বাবরি মসজিদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়টিকেই এবার সরাসরি ভোটের হাতিয়ার হিসেবে সামনে আনলেন তিনি।
হুমায়ুনের স্পষ্ট দাবি, বাবরি মসজিদ নির্মাণ বাস্তবায়িত করতে হলে তাঁর দলকে বিধানসভায় অন্তত ৯০টি আসনে জয়ী করতে হবে। কেন এই সংখ্যাটি গুরুত্বপূর্ণ, তার ব্যাখ্যাও জনসভা থেকে তুলে ধরেছেন তিনি।
ভিত্তিপ্রস্তর থেকে জনসমাগম
গত ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন হুমায়ুন কবীর। সেই স্থানেই শুক্রবার সকালে জুম্মার নামাজকে কেন্দ্র করে বড় জমায়েত দেখা যায়। দানবাক্সে অর্থ জমা পড়ছে, অনলাইনে অনুদান আসছে, এমনকি নির্মাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন সমর্থকেরা—এই আবেগকেই রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তর করতে চাইছেন তিনি।
সেখানেই দাঁড়িয়ে হুমায়ুন জানান, আগামী ২২ ডিসেম্বর ওই জায়গাতেই রেকর্ড জমায়েতের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। ওই দিনই তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজের নতুন দলের ঘোষণা করবেন বলেও জানান।
৯০ আসনের ব্যাখ্যা
এর পরে সন্ধ্যায় নওদা থানার ত্রিমোহিনী এলাকায় ওয়াকফ আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন হুমায়ুন কবীর। সভার আয়োজন করেছিল ভারতীয় সংবিধান রক্ষা মঞ্চ। সেখানেই তিনি বলেন, “শুধু টাকা বা ইট দিলেই হবে না, ভোট দিতে হবে। বিজেপি বা তৃণমূল যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ে, কেউ বাবরি মসজিদ তৈরি করতে দেবে না।”
হুমায়ুনের যুক্তি, ৯০টি আসনে জয় পেলে বিধানসভায় তাঁর দল ‘কিংমেকার’ হবে। তাঁর ভাষায়, “৯০ আসন জিতলে সরকারের চাবিকাঠি আমার হাতে থাকবে। তখনই এই দাবি বাস্তবায়নের জায়গা তৈরি হবে।”
নির্বাচনী রণকৌশল স্পষ্ট
আগেই হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন, তাঁর দল বিধানসভা নির্বাচনে ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেবে। বাবরি মসজিদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে আবেগ তৈরি হয়েছে, সেটিকেই সংগঠিত ভোটে পরিণত করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় আবেগকে প্রকাশ্যে নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে তুলে ধরায় রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক ও মেরুকরণের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। হুমায়ুন কবীরের এই অবস্থান কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলেই।



