দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্তে SIT গঠনের দাবি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিষেক

লালকেল্লা বিস্ফোরণের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। অভিষেকের দাবি, আদালতের নজরদারিতে গঠিত হোক বিশেষ তদন্ত দল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লি বিস্ফোরণ (Delhi Blast)-এর পর রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা চরমে। রাজধানীর হৃদয়স্থল লালকেল্লার (Red Fort) সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত ও ২০ জন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় এবার সরব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)

সোমবার রাতের ভয়াবহ ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে তিনি এক্স হ্যান্ডলে (X Handle) পোস্ট করে লিখেছেন, “দিল্লির রেড ফোর্টের কাছে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

এর সঙ্গে তিনি দাবি তুলেছেন, তদন্ত যাতে নিরপেক্ষভাবে ও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পূর্ণ হয়, সেজন্য আদালতের নজরদারিতে SIT (Special Investigation Team) গঠন করা উচিত।

দিল্লি পুলিশের গাফিলতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক

অভিষেকের বক্তব্য, “দিল্লি পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন। রাজধানীর মতো নিরাপত্তা বলয়ে এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ হওয়া গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এর আগেই ফরিদাবাদে প্রায় ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক এবং একটি অ্যাসল্ট রাইফেল উদ্ধার হয়েছিল। পরপর এমন ঘটনা ঘটছে, অথচ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হচ্ছে— তা হলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আসলে কতটা সুরক্ষিত?”

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এত কঠোর নজরদারি ও প্রযুক্তি ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে রাজধানীর সবচেয়ে সংরক্ষিত এলাকাগুলির একটিতে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটতে পারল?

তদন্তে যুক্ত একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থা

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) সোমবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, তদন্ত সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এই ঘটনায় তদন্তে যুক্ত রয়েছে দিল্লি পুলিশ, NIA (National Investigation Agency), NSG (National Security Guard) এবং FSL (Forensic Science Laboratory)। আজ মঙ্গলবার অমিত শাহের নেতৃত্বে এক জরুরি বৈঠক (Emergency Meeting) ডাকা হয়েছে, যেখানে IB, NIA এবং দিল্লি পুলিশের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

সূত্রের খবর, যে গাড়িটিতে বিস্ফোরক বোঝাই ছিল, সেটিতে ছিলেন দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা চিকিৎসক উমর নবির। তদন্তকারীরা তাঁর গতিবিধি ও সম্ভাব্য জঙ্গি-যোগ খতিয়ে দেখছেন।

‘লালকেল্লা বিস্ফোরণ’ ঘিরে জঙ্গি যোগের ইঙ্গিত

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের ধরণ ও ব্যবহৃত বিস্ফোরকের প্রকার দেখে মনে হচ্ছে এটি সুপরিকল্পিত হামলা। গোয়েন্দা মহল মনে করছে, এই ঘটনায় পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠনগুলির হাত থাকতে পারে।

যদিও এখনই কোনও সংগঠনের নাম সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবুও তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর ছায়া দেখা যাচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।

এক শীর্ষ তদন্তকারী আধিকারিকের মতে, “এই হামলা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জকে নতুন করে সামনে এনেছে। দিল্লির মতো এলাকায় এমন হামলা নিঃসন্দেহে সন্ত্রাসবাদের বড় বার্তা।”

আদালতের নজরদারিতে তদন্তের দাবিতে জোর

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে লেখেন, “সত্য সামনে আনতে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। তাই আদালতের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করা হোক।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের এই মন্তব্য শুধু তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও সরাসরি আঘাত হানে।

বর্তমানে দিল্লি বিস্ফোরণ (Delhi Blast) শুধু সন্ত্রাস নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত