বাজারে ঘুরছে নকল মাছ, গঙ্গার ইলিশ চেনার উপায় জানেন? এই ৭টি লক্ষণ যাচাই করুন

গঙ্গার ইলিশের নামে অন্য এলাকার বা সংরক্ষিত মাছ কিনে ঠকছেন না তো? বাজারে ইলিশ কেনার আগে গড়ন, আঁশ, চোখ, কানকো, লেজ ও গন্ধ কীভাবে যাচাই করবেন জেনে নিন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: চড়া দাম দিয়ে ইলিশ কিনে বাড়ি ফেরার পর রান্নায় যদি সেই পরিচিত গন্ধ-স্বাদ না মেলে, হতাশ হওয়ারই কথা। বাজারে গঙ্গার ইলিশের পাশাপাশি গুজরাত, মহারাষ্ট্র, মায়ানমার বা সমুদ্রের ইলিশও বিক্রি হচ্ছে। দেখতে অনেকটাই একই হওয়ায় চোখে দেখে পার্থক্য করা কঠিন। তাই গঙ্গার ইলিশ চেনার উপায় জানা থাকলে কেনার সময় ঠকার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে।

গুজরাত বা মহারাষ্ট্রের ইলিশ সাধারণত আকারে বড় এবংওজনেও ভারী হয়। কিন্তু বড় মাছ মানেই যে স্বাদে সেরা, তা নয়। গঙ্গার ইলিশের স্বাদ ও গন্ধের সঙ্গে এই মাছের যথেষ্ট পার্থক্য থাকতে পারে।

মায়ানমার বা কোলাঘাটের ইলিশও বাজারে পাওয়া যায়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত নুন মাখানো মাছও বিক্রি হতে পারে। রান্নার পর যদি ইলিশে অস্বাভাবিক নোনতা গন্ধ বা স্বাদ পাওয়া যায়, তা হলে সেই মাছ কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

গঙ্গার ইলিশ চেনার ক্ষেত্রে প্রথমেই নজর দিন মাছের গড়নে। সাধারণত গঙ্গার ইলিশের মাঝের অংশ তুলনামূলক চওড়া, আর মাথা ও লেজের দিক সরু হয়। সামুদ্রিক বা অন্য এলাকার ইলিশ অনেক সময় তুলনায় বেশি চ্যাপ্টা ও লম্বাটে দেখতে হয়।

মাছের গায়ের রংও গুরুত্বপূর্ণ। তাজা ইলিশের আঁশ উজ্জ্বল রুপোলি হয় এবং আলো পড়লে ঝকঝক করে। গায়ে কালচে বা তামাটে ছাপ থাকলে মাছটি কতটা তাজা, তা ভালো করে পরীক্ষা করে নিন।

পেটের কাছে আঙুল দিয়ে খুব হালকা চাপ দিয়েও মাছের তাজাভাব বোঝার চেষ্টা করা যায়। অংশটি কিছুটা নরম ও স্বাভাবিক মনে হলে মাছটি তুলনামূলক তাজা হতে পারে। তবে শুধু এই একটি লক্ষণের উপর নির্ভর না করে আরও কয়েকটি বিষয় মিলিয়ে দেখা জরুরি।

চোখের দিকেও নজর রাখুন। তাজা মাছের চোখ সাধারণত স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল থাকে। চোখ ঘোলাটে, লালচে কিংবা বসে যাওয়া অবস্থায় থাকলে মাছটি বাসি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বার দেখুন কানকো। কানকো উল্টে ভিতরের অংশ পরীক্ষা করলে তাজা মাছের ক্ষেত্রে টাটকা লাল বা রক্তবর্ণ ভাব দেখা যায়। বিবর্ণতা থাকলে সতর্ক হওয়া ভালো।

মাথার গড়ন এবং লেজও দেখে নিন। গঙ্গার ইলিশের মাথা শরীরের তুলনায় ছোট হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তাজা মাছের লেজও সাধারণত শক্ত ও সোজা থাকে। হিমঘরে রাখা বা বাসি মাছের লেজ তুলনায় নরম হয়ে যেতে পারে।

আর একটি বিষয় নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা দরকার—মাছের গায়ে অস্বাভাবিক লালচে রং বা কানকোয় কৃত্রিম রঙের ছাপ রয়েছে কি না। স্বাভাবিক ইলিশের গায়ে রুপোলি আভাই থাকার কথা। অস্বাভাবিক রং চোখে পড়লে সেই মাছ না কেনাই নিরাপদ।

তবে মনে রাখা দরকার, শুধু চেহারা দেখে মাছের উৎস ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করা সবসময় সম্ভব নয়। গড়ন, আঁশ, চোখ, কানকো, লেজ এবং গন্ধ—সবকটি লক্ষণ একসঙ্গে বিচার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। দাম দিয়ে ইলিশ কেনার আগে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে পরীক্ষা করলেই স্বাদহীন বা দীর্ঘদিন সংরক্ষিত মাছ কেনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন