নজরবন্দি ব্যুরোঃ সরস্বতী পুজোর বিসর্জনের দিনেই সকলকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন মর্তের সরস্বতী লতা মঙ্গেশকর। তার গানের মহিমায় মোহিত হতেন সকলেই। যার ফলে তার প্রয়াণে কার্যত থমকে যায় গোটা দেশের সঙ্গীত মহল। শুধুমাত্র সঙ্গীত নয়, গানের পাশাপাশি ক্রিকেট ও ফুটবলের ক্ষেত্রেও সমান আগ্রহ ছিল ৯২-এর এই কোকিল কণ্ঠীর। বর্তমানে তার মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাকে নিয়ে আবেগপ্রবণ গোটা বিশ্বের কোটি কোটি সঙ্গীত অনুরাগী। কিন্তু মৃত্যুর আগের দু-দিন কেমন কেটেছিল সরস্বতীর বরপ্রাপ্ত এই কন্যার?
আরও পড়ুনঃ রাস্তা থেকে অপহৃত পুর নির্বাচনের প্রার্থী, যত কাণ্ড কাঁথিতে


এই প্রসঙ্গে লতা মঙ্গেশকরের চিকিৎসক প্রতিত সামদানি বলেন, হাজারো কষ্টের মধ্যেও তার মুখে সর্বদাই হাসি লেগে থাকত। উল্লেখ্য, গত তিন বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতার জন্য খুব বেশি কথা বলতে পারতেন না। কিন্তু চিন্তা করতেন সকলের জন্য। তবে শুধু সেই চিকিৎসকই নয়, তার মেয়েও নাকি পেয়েছিলেন এই মর্তের সরস্বতীর সান্নিধ্য। তিনি বলেন, নিয়মিত ভিডিও কলের মাধ্যমে তার বছর আস্তে মেয়ের সঙ্গে কথা বলতেন লতাজি। কিন্তু শেষ কটা দিন কেমন ছিলেন লতা মঙ্গেশকর?
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি করোনা আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিজ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের অনেকেই কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন লতাজি। তাদের মধ্যে দুজন নার্স বিগত ২৯ দিন ধরেই লতাজির যথেষ্ট প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তাদের মধ্যে সারিকা দেবানন্দ ভিসে বলেন, শিবাজী পার্কে যখন এই ভারতরত্নের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় তখন সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তাকে খুব মিস করব।
গত দু-দিন ধরেই শারীরিক দিক থেকে যথেষ্ট অবনতি ঘটতে থাকায় ভেণ্টিলেশনে ফিরিয়ে আনা হয় ৯২ এই কোকিল কণ্ঠী কে। অক্সিজেন লেভেল ক্রমশ কমতে থাকে কারন তার ফুসফুসে নিউমোনিয়ার আরও দুটি প্যাচ দেখা দিয়েছিল।তবে এত কিছুর পরেও আমাদের সকলকে চিনতে পারছিলেন তিনি।


শেষ কটা দিন কেমন ছিলেন লতা মঙ্গেশকর? জানা গেল হাসপাতাল সূত্রে

হাসপাতালের আরেক নার্স বলেন, গত শনিবার রাত থেকেই প্রস্রাব ও কিডনি দুই বন্ধ হয়ে যায়। তারপর দুবার ধরে তার ডায়ালিসিস হলেও কোন রকমের সাড়া মেলেনি লতাজির তরফ থেকে। যা নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিন্তা দানা বাঁধতে থাকে চিকিৎসকদের মধ্যে। এসবের মাঝেই রবিবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সরস্বতীর বরপ্রাপ্ত এই শিল্পী।







