নজরবন্দি ব্যুরোঃ কি ভাবে বুঝবেন আপনার সন্তানের করোনা হয়েছে? দিনে দিনে বাড়ছে আক্রান্তের পরিমাণ। এই মুহুর্তে দেশের সংক্রমণের গ্রাফ উর্ধমুখী। দেশ জুড়ে ঘাটতি অক্সিজেন-বেডের। সঙ্গে অপর্যাপ্ত টিকা। আর তার মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন দেশে আসতে চলেছে করোনার তৃতীয় ওয়েব। আর এই ওয়েবে নাকি এবার সংক্রমণ বাড়বে শিশুদের মধ্যে বেশি। যা নিয়ে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা। এখনও পর্যন্ত ভারতের ৫.৮ শতাংশ শিশু করোনার কবলে পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ করোনা যুদ্ধে চেতলা অগ্রণী, ফিরহাদের হাত দিয়ে শুরু ‘দুয়ারে অক্সিজেন’ প্রকল্প।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা উপসর্গহীন। রিপোর্ট বলছে, ভারতে ৮ থেকে ২০ শতাংশ বাচ্চাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বাড়িতে থেকেই সুস্থ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃতীয় ওয়েব বাচ্চাদের জন্য আরও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই অগ্রিম সতর্কতা নিচ্ছে রাজ্যও। কীভাবে বুঝবেন আপনার সন্তান করোনা আক্রান্ত হয়েছে? আর সংক্রমিত হলেই বা কী করা উচিত? এবার এনিয়েই বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করল স্বাস্থ্যদপ্তর।
কীভাবে বুঝবেন আপনার সন্তান করোনা আক্রান্ত হয়েছে?
১. ৮ বছরের ঊর্ধ্বে মাইল্ড করোনা হলে স্বাদ-গন্ধ চলে যেতে পারে।
২. অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯২ হয়ে যেতে পারে। স্যাচুরেশন ৯৫-এর নিচে নামলেই তা মারাত্মক।
৩. ডায়েরিয়া আর বমি হতে পারে।
৪. খাবারের ইচ্ছা চলে যেতে পারে।
৪. শরীরে করোনা মারাত্মক প্রকোপ ফেললে হার্টবিট সমস্যা হতে পারে।
এই সমস্ত লক্ষণ দেখলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আপনার সন্তানের করোনা হলে কি করবেন?
১. স্বল্প এবং তার চেয়ে সামান্য বেশি করোনার প্রকোপ থাকলে প্রচুর জল খেতে হবে। অন্তত চার-পাঁচ লিটার জল খাওয়ান।
২. ডায়েরিয়া হলে ORS খেতে হবে।
৩. ভিটামিন C, ও জিঙ্ক দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এতে কতটা লাভ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তার চেয়ে ফল ও শাক-সবজি খাওয়ার উপর জোর দিতে বলছেন চিকিৎসকরা।
৪. জ্বর এলে প্যারাসিটামল ১৫ এমজি দিতে পারেন। তবে দিনে পাঁচবারের বেশি যেন এই ওষুধ না খাওয়ানো হয়।
৫. ৮ বছর পর্যন্ত বাচ্চাকে প্যারাসিটামল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে ৪ ঘণ্টার ব্যবধান রাখতে হবে।
৬. বাচ্চার নাক বন্ধ হলে স্যালাইন স্প্রে দিতে হবে।
৭. পেট খারাপের জন্য অ্যান্টি-বায়োটিক নয়, প্রো-বায়োটিক দিতে হবে।
৮. বমি হলে ডোমপেরিডোন গোত্রের ওষুধ দিতে হবে।
৯. জল খাইয়েও যদি ইউরিন কমতে থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
১০. করোনা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছলে ডেক্সামিথাজোন .১৫ এমজি ১৪ দিন খেতে হবে।
১১. সাধারণ ক্ষেত্রে রেমডেসিভিরের প্রয়োজন নেই।
১২. স্যাচুরেশন ৯৪ শতাংশের নিচে না নামলে বাচ্চাকে স্টেরয়েড দেবেন না।
১৩. নেবুলাইজার দিতেও বারণ করা হচ্ছে।
১৫. আগে থেকে হাঁপানি থাকলে স্যালভুটামল গোত্রের ওষুধ দিতে হবে।
কি ভাবে বুঝবেন আপনার সন্তানের করোনা হয়েছে?
চিন্তা হবার কি কিছু আছে?
১. ইউরিন কমে যাওয়া।
২. জ্বর ফিরে ফিরে আসা।
৩. বাচ্চার খাওয়া কমে যাওয়া।
৪. বাচ্চা বারবার ক্লান্ত হয়ে পড়া।
এসব ক্ষেত্রে কোভিড টেস্ট করাতে হবে।



