‘চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হোন মমতা’, ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের পাশে থাকার বার্তা হিন্দিভাষীদের

বড়বাজারের ‘লিট্টি চোখা উৎসব’ থেকে স্পষ্ট বার্তা—ভাষা বা ধর্ম নয়, উন্নয়নের প্রশ্নেই তৃণমূলকে সমর্থন করবেন হিন্দিভাষী সম্প্রদায়

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে এল কলকাতার বড়বাজার এলাকা থেকে। রবিবার অনুষ্ঠিত ‘লিট্টি চোখা উৎসব’-এর মঞ্চে হিন্দিভাষী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা—ভাষা বা ধর্মের বিভাজন নয়, উন্নয়নের নিরিখেই তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস-এর পাশে থাকবেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী করার লক্ষ্যে পূর্ণ সমর্থন দেবেন।

উৎসবের মঞ্চেই রাজনৈতিক বার্তা

এই লিট্টি চোখা উৎসবের আয়োজন করেন উত্তর কলকাতার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণপ্রতাপ সিং। প্রতিবছরের মতো এবারও এই উৎসব ঘিরে জমায়েত হয়েছিল বিপুল সংখ্যক মানুষ। তবে এদিন উৎসবের আবহ ছাপিয়ে যায় রাজনৈতিক বার্তাই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার, মন্ত্রী ও কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-সহ একাধিক বিধায়ক ও নেতা।

‘ভেদাভেদের রাজনীতি নয়’

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুব্রত বক্সি বলেন, “যাঁরা বিহার বা অন্য রাজ্য থেকে এসে বাংলায় বসবাস করছেন, তাঁরা যেন কোনও ভেদাভেদের রাজনীতিতে পা না দেন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আসবে।”

তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ তাঁর বক্তব্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “বাংলা শুধু বাংলা ভাষাভাষীদের নয়। যাঁরা কাজ, জীবন ও ভালোবাসার টানে এই রাজ্যকে নিজের করে নিয়েছেন, এই বাংলা তাঁদেরও। এখানে ভাষা বা ধর্মের নামে বিভাজন করে বিজেপি সফল হবে না।”

উন্নয়নই মূল কথা

কুণাল ঘোষের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে রাজ্য সরকারের প্রকল্পের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৯৩টি প্রকল্প—বাংলা, হিন্দি বা উর্দু ভাষাভাষী সকলের জন্য সমান। উন্নয়নই শেষ কথা। সেই উন্নয়নের স্বার্থেই সবাইকে একজোট হয়ে তৃণমূলের পাশে থাকতে হবে।”

হিন্দিভাষী নেতৃত্বের স্পষ্ট অঙ্গীকার

উৎসবের আয়োজক কৃষ্ণপ্রতাপ সিংও স্পষ্ট ভাষায় জানান, “বিহার থেকে আসা হিন্দিভাষী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আমরা শপথ করে বলছি—আবারও তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতাতে মাঠে নামব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে এই ধরনের বার্তা রাজ্যের বহুভাষিক ভোটব্যাঙ্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বড়বাজারের এই উৎসব কার্যত তৃণমূলের পক্ষে এক শক্ত রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত